ভালো সড়ক সংস্কার করাই তার কাজ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৫:৩৮ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

 

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে আছে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার সড়ক। ওই সড়ক সংস্কার না করে চলতি অর্থ বছরে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল সড়কের সিংগুরিয়া বাজার থেকে নিকরাইল বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার ভালো সড়ককে খানাখন্দ দেখিয়ে সংস্কারের জন্য দরপত্রের আহ্বান করে।

এতে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার দরপত্রের কাজ পান টাঙ্গাইলের অবনি এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে কোটি টাকা হরিলুটের পাঁয়তারায় সিডিউল পরিবর্তন করে এলজিইডি কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশে এ কাজটি করার অভিযোগ উঠেছে।

অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কার কাজে পুরাতন সড়ক ভেঙে নতুন করে সড়ক নির্মাণসহ দুই পাশে দুই ফুট করে মাটি ভরাটের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এলজিইডি টাঙ্গাইল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীর মৌখিক নির্দেশেই সিডিউল মোতাবেক কাজ করছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এলজিইডির অসাধু কর্মকর্তারা ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে টেন্ডারের এ বিপুল অংকের টাকা আত্মসাতের জন্যই এমন ভালো সড়কে কাজের দরপত্র আহ্বান করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সহকারী প্রকৌশলী মিন্টু মিয়ার বিরুদ্ধে এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের একাধিক কাজ করে বিপুল অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সরকারের বিভিন্ন দফতরে চিঠি দিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার বলেন, ভূঞাপুর এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মিন্টু মিয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ভালো সড়কগুলো সংস্কারের জন্য ফাইল তৈরি ও পাস করিয়ে আনাই মূলত তার কাজ। এরপর হ্রাসমূল্যে আস্থাভাজন ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে বিপুল অংকের টাকা লুট করেন তিনি।

তার বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের অভিযোগ তুলে ও তদন্ত দাবিতে সম্প্রতি অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ, মেম্বার হেকমত, জুলহাসসহ স্থানীয় ফিউটন স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করেছেন বলেও জানান অভিযোগকারীরা।

সিডিউল মোতাবেক কাজ না হওয়ার কথা স্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হেকমত জানান, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই ওই কাজটি আমরা পেয়েছি। তবে কাজ করতে এসে দেখি সিডিউল অনুযায়ী এখানে কাজ করা সম্ভব নয়। সড়কের দুই পাশে ইটের গাঁথুনি না থাকায় কাজ করতে সমস্যা হয়। পুরাতন বেজ উঠানো হলে পুরো রাস্তাই বাতিল হয়ে যাবে। তাই এ বিষয়টি এলজিইডির কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসে এভাবেই কাজ করার মৌখিক নির্দেশে দিয়েছেন। তারা উপস্থিত থেকে কাজ বুঝেও নিচ্ছেন। এখানে আমাদের করার কিছু নেই।

ভালো সড়ক সংস্কার কাজের অনুমোদন করার বিষয়ে জানতে চাইলে ভূঞাপুর এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মিন্টু মিয়া কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি রি-স্টিমেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। তবে তিনি রি-স্টিমেন্টের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

jagonews24

এছাড়া মৌখিক নির্দেশে সিডিউল পরিবর্তন করার বিধি না থাকলেও এলজিইডির টাঙ্গাইল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদারের মৌখিক নির্দেশেই কাজ করানো হচ্ছে বলে জানান ভূঞাপুর এলজিইডির ওই সহকারী প্রকৌশলী।

মৌখিক নির্দেশের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার জানান, এ সড়কে অনেক লোক যাতায়াত করে এবং অল্প খরচে সড়কটি সংস্কার করা যাচ্ছে বলেই তা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব সড়কই আমরা সংস্কার করবো।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/আরআইপি