শ্রম এক মজুরি অর্ধেক
প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক দিয়ে কাজ করালে বেতন দিতে হয় কমপক্ষে ৫শ টাকা। একই কাজ একই শ্রমে শিশুদের দেয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক একজন শ্রমিকের অর্ধেকটা দেয়া হচ্ছে শিশুদের শ্রমের মূল্য। তাও আবার একদিন বকেয়া হলে ওই বেতন পরিশোধ করতে তালবাহানা শুরু করে মালিক পক্ষ।
রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম পুটিয়াখালী গ্রামের মো. রুস্তম আলী হাওলাদারের ইট তৈরির কারখানা (অনুমোদনহীন পাঁজা) মেসার্স এম.টি.এইচ ব্রিকসে গিয়ে দেখা যায় কাজ করছে লোকমান (১২), শুক্কুর (১৩), মো. সাব্বির হোসেন (১২), হৃদয় হোসেন (১৬), সবুজ (১৬), শাহীন (১৬) ও তারেক (১৭)। তারা সবাই পড়াশোনাও করে। তাদের তদারকির জন্য রয়েছে আব্দুল বারেক নামে আরেক শ্রমিক।
লোকমান জানায়, এ বছর পুটিয়াখালী আলিয়া মাদরাসার ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। বাড়ি থেকে মাদরাসা অনেক দূর। তাই এখানে কাজ করে যে টাকা পাবে সেটি দিয়ে সাইকেল কিনবে সে।
শুক্কুর জানায়, কয়েক বছর আগে বাবা মারা গেছে। মা এবং ৩ ভাই-বোনের সংসার। পশ্চিম পুটিয়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে সে। সংসার চালানোর জন্যই ইট তৈরির কারখানায় কাজ করতে হচ্ছে।

এরা সবাই শুকনো কাঁচা ইট পাঁজায় সাজানোর কাজে নিয়োজিত। এদের সবারই বেতন দিনে ২৫০ টাকা।
একই ভাটায় ভিন্ন কাজ করছে ১০ম শ্রেণির ছাত্র সবুজ, শাহীন এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র তারেক। প্রস্তুতকৃত নরম মাটি দিয়ে ইটের তৈরির খড়মায় ফেলে কাচা ইট রোদে শুকানো তাদের কাজ। শুকানো হলে পাশেই সারি দিয়ে রাখা। এতে প্রতি হাজারে ১ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। প্রতিদিন দেড় থেকে ২ হাজার ইট প্রস্তুত করে তারা। ওই টাকাই ভাগ করে নেয় তারা।
এ বিষয়ে কথা বলতে কারখানার মালিক মো. রুস্তম আলী হাওলাদারকে না পেয়ে ফোন করলে ছেলে তারেক জানান, শিশুরা লেখাপড়ার ফাঁকে এসে কাজ করে। সকালে কাজে আসলে দুপুর ২টার মধ্যে চলে যায়। তাই ওদের বেতন ২৫০ টাকা দেয়া হয়।
আতিকুর রহমান/এফএ/পিআর