বনের ভেতর অবাধে চলছে ১৮০ করাতকল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৫:৪৪ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা বনাঞ্চলের ভেতরে অবাধে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ১৮০টি করাতকল। বন বিভাগের আইনে বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে করাতকল স্থাপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও অবাধে চলছে এসব করাতকল।

বন কর্মকর্তাদের মৌখিক অনুমতিক্রমে চলছে ১২০টি করাতকল এবং বনের কোলঘেষে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে উঠেছে আরও ৬০ করাতকল। এসব অবৈধ করাতকলে বৈধ ও অবৈধভাবে প্রতিদিন বনের গাছ চিরাই করে পাচার করায় দিন দিন উজাড় হয়ে যাচ্ছে সাধারণ ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল।

জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া রেঞ্জের আওতাধীন ৮৮.৪৫ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চলের বটতলী, ঝড়কা, চৌড়াসা, দেওপাড়া, ধলাপাড়া ও সাগরদিঘী এ ছয়টি বিটের ৪৯টি মৌজায় বনভূমি ও সংরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ২৯ হাজার ১০৬.৭৬ একর। এই বিশাল বনভূমিতে রয়েছে আকাশমণি, মেনজিয়াম, ইউক্যালিপটাস, সেগুন ও শাল-গজারি বনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালি।

সরেজমিনে ও স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, বন কর্মকর্তাদের মাসোহারার বিনিময়ে মালিকরা এসব করাতকল চালাচ্ছেন। রেঞ্জ অফিস ও বিট অফিসের নাকের ডগায় মালিকরা করাতকল স্থাপন করে দিনরাত চোরাই কাঠ চিরাই করছে। সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা, বিট কর্মকর্তা ও ফরেস্ট গার্ডদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দিনের পর দিন এসব করাতকল চালু রয়েছে। শালবনের ভেতরে ডিজেল মেশিন দিয়ে স্থাপন করা হয়েছে ১২০টি করাতকল। এসব করাতকল ও অতিরিক্ত গাছ চুরির কারণে প্রতি বছর সরকারের কোটি কোটি টাকার বাগান ধংস হয়ে যাচ্ছে। করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান না থাকায় সংরক্ষিতগুলো বাগান বিরানভূমিতে পরিণত হচ্ছে।

এসব অবৈধ করাতকলের বিষয়ে পৌর করাতকল মালিক সমিতির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আ. হালিম জানান, ঘাটাইল উপজেলায় দুই শতাধিক করাতকল লাইসেন্স বিহীন চলছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে বার বার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলার পর ২০১৭ সালের ২ আগস্ট অভিযান চালানো হয়। তবে পরে অদৃশ্য কারণে কর্তৃৃপক্ষ জব্দকৃত করাতকল ফেরত দেয়।

করাতকল মলিক ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, বনের ভেতরে এসব করাতকলের ৯০ ভাগের মালিক কাঠ ব্যবসায়ীরা। কাঠ চোরদের সঙ্গে করাতকল মালিকদের সম্পর্ক রয়েছে।

forest

অবৈধ করাতকল কিভাবে চলে জানতে চাইলে দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন করাতকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক জানান, দশজনের মতো করে কর্তৃৃপক্ষের সঙ্গে মিলেমিশেই করাতকল চালাতে হয়।

জানতে চাইলে বটতলী বিট কর্মকর্তা সোলায়মান হোসেন বলেন, কিভাবে স্থাপন করা হয় তা আমি জানি না। তবে আমি কোনো টাকা-পয়সা নিই না।

ঘাটাইলের ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, এসব করাতকল কিভাবে চলে আমি নিজেও জানি না। তবে করাতকল স্থাপনের সঙ্গে আমি কিংবা আমার বিট অফিসারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তাহলে কিভাবে এসব করাতকল স্থাপিত হয় বা চলে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা বলা যাবে না। সাক্ষাতে কথা বলব, অফিসে চলে আসুন বলেই ফোন কেনে দেন।

করাতকল বন্ধ করার বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বন ও পরিবেশ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান বলেন, উপজেলা মাসিক মিটিং চলাকালে অবৈধ করাতকল বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। যারা রক্ষক তারাই যদি ভক্ষক হন, তাহলে বন রক্ষা হবে কিভাবে?

এ প্রসঙ্গে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহীন জানান, বনাঞ্চলের বিষয়গুলো বন বিভাগের কর্মকর্তারা দেখভাল করেন। ২০১৭ সালের আগস্টে ১৬-১৭টি করাতকল জব্দ করা হয়। এ অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জব্দ করাতকলগুলোর বিষয়ে বন বিভাগ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে মামলা চলমান রয়েছে এবং করাতকলগুলো জব্দ তালিকা অনুযায়ী সংরক্ষণে রাখা হয়েছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।