প্রতিবন্ধী শিশুকে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৪:০২ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৮

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক প্রতিবন্ধী শিশুকে বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক জোরপূর্বক বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সদর উপজেলার গোপিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রের মা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত সোমবার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার করা ওই লিখিত অভিযোগে ছাত্রটিকে নৌকা থেকে ফেলি দিয়ে প্রণনাশের হুমকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকার বোরহান উদ্দিনের ছেলে আবদুল্লাহ আল সিফাত গোপিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।

প্রতিবন্ধী এই শিশুটির মা বিলকিছ জাহান রিমি ওই বিদ্যালয়েরই সহকারী শিক্ষক। এ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক আশীষ চন্দ্র দেব গত ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি যোগদানের পর থেকেই সিফাতের ওপর মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। সিফাতকে তিনি ‘আবুইল্লা’ বলে ব্যঙ্গ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চলতি বছরের শুরুতে সিফাতের ওপর প্রধান শিক্ষক আশীষের নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি সহকারী শিক্ষিকা শিরিন আক্তারের ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে হাতে লেখার জন্য সিফাতকে কটাক্ষ করেন।

এরপর সিফাতকে ১৫ দিনের মধ্যে হাতে লেখা সুন্দর করার জন্য আল্টিমেটাম দিয়ে তাকে চতুর্থ শ্রেণিতে নামিয়ে দিতে বলেন। এ ঘটনার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সে। সিফাতের মা প্রধান শিক্ষক আশীষকে তার মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কথা একাধিকবার জানিয়েছেন।

সর্বশেষ গত ৬ মার্চ প্রধান শিক্ষক আশীষ সহাকারী শিক্ষক শিরিন আক্তারের মাধ্যমে সিফাতের মাকে জানিয়ে দেন সে আর এই বিদ্যালয়ের পড়ালেখা করতে পারবে না। পরদিন সিফাতকে জোরপূর্বক বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দেন ওই প্রধান শিক্ষক।

তবে গোপিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশীষ চন্দ্র দেব অভিযোগটি উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে জাগো নিউজকে বলেন, আমি যদি ছয় বছর ধরে সিফাতকে নির্যাতন করে থাকি তাহলে এতদিন কেনো আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলো না? হুট করে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উদ্দেশ্যমূলক এবং ভিত্তিহীন। সিফাতের মা আমাদের বিদ্যালয় থেকে শহরে বদলি হয়ে যাবেন বলে আমাকে নিজেই বলেছেন সিফাতকে ছাড়পত্র দিতে।

তিনি আরও বলেন, সিফাতারে মা এখন লোকজন পাঠিয়ে আমাকে হাত-পায়ের রগ কেটে ফেলবেন বলে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস জাগো নিউজকে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজিজুল সঞ্চয়/এএম/এমএস