সাবেক স্ত্রীর পায়ের রগ কাটলেন স্বামী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৯:৫৮ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে রায়হানা আক্তার (২২) নামে এক নারীর দুই পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে রায়হানার মা হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাটিতে সাবেক স্বামীসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। গুরুতর আহত অববস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রায়হানা।

মামলার এজহারে বলা হয়, গত চার বছর আগে জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়ার মেয়ে রায়হানা আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত মব্বত আলীর ছেলে কামরুল মিয়ার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর রায়হানার পরিবারের লোকজন জানতে পারেন কামরুল মাদকাসক্ত। সে প্রায়ই যৌতুকের টাকার জন্য রায়হানাকে মারধর করত। কামরুল পাঁচ লাখা টাকা যৌতুক দাবি করে রায়হানার পরিবারের কাছে।

কিন্তু টাকা দিতে না পারায় রায়হানার ওপর শারীরিক নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। এসব সহ্য না করতে না পেরে গত সাত মাস আগে রায়হানা নিজেই কামরুলের কাছ থেকে তালাক নেন।

এরপর স্থানীয় শাহবাজপুর হাজীপাড়া মহিলা মাদরাসায় ভর্তি হয় সে। তবে তালাকের পরও রায়হানার পিছু ছাড়েনি কামরুল। মাদারাসায় আসা-যাওয়ার পথে রায়হানাকে উত্ত্যক্ত ও ভয়ভীতি দেখায় কামরুল।

এজাহারে আরও বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রায়হানা মাদারাসায় যাওয়ার পথে স্থানীয় হাবলিপাড়া মসজিদের সামনে আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা কামরুলসহ আরও কয়েকজন তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।

একপর্যায়ে তারা রায়হানার দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

এ ঘটনায় সরাইল থানায় কামরুলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে এখনো পুলিশ কোনো আসামিকেই গ্রেফতার করতে পারেনি।

রায়হানার মা ও মামলার বাদী হাজরো খাতুন বলেন, ওর (কামরুল) যন্ত্রণায় আমার মেয়ে সংসার ত্যাগ করেছে। তারপরও আমার মেয়েকে শান্তি দিচ্ছে না সে। আামি আমার মেয়ের ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

সরাইল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজ উদ্দিন ভূইয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আজিজুল সঞ্চয়/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :