প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে নতুন রূপে সেজেছে ঠাকুরগাঁও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৩:৫৮ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৮

শুরু হয়েছে ক্ষণ গণনা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন। তার আসার খবরে আশায় বুক বাঁধছেন ঠাকুরগাঁওবাসী।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহরের অফিস, আদালত, বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার, রঙয়ের কাজ ও সড়ক মেরামতের ধুম পড়েছে। এছাড়া জনসভা সফল করতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার ১৭ বছর পর এই প্রথম ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন তিনি। আগামীকাল ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।

media

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ঠাকুরগাঁও শহরকে সাজানো হয়েছে নবরূপে। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরকালে কলেজ ভবন, ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তা-ঘাটসহ মোট ৩৫টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৩৩টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন ও জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনগুলো ঠাকুরগাঁও জেলাকে সাজিয়েছেন নতুন সাজে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নানা প্রাপ্তি ও প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছে দলমত নির্বিশেষে ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষ।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলার সাধারণ মানুষের দাবি, উত্তরের অবহেলিত জেলা ঠাকুরগাঁও। এই অঞ্চলের ৮০ ভাগ মানুষ কৃষিকাজেরর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এই জেলার মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থানের অভাবে দেশের অনেক জেলার থেকে পিছিয়ে পড়েছে।

media

এই জেলায় বড় কোনো শিল্প-কারখানা স্বাধীনতার পর থেকেই গড়ে ওঠেনি। রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি রেলপথে যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকলেও তা অদৃশ্য কারণে আটকে রয়েছে। কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের নায্য মূল্য থেকে দীর্ঘদিন যাবত বঞ্চিত। প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁওকে উন্নত জেলায় পরিণত করতে কিছু প্রদক্ষেপ গ্রহণ করলে এগিয়ে যাবে এই জেলার মানুষ। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঠাকুরগাঁওবাসীর দাবি ও প্রত্যাশা অনেক।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী বলেন, আমরা ১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। জনসভায় প্রায় ১০ লাখ মানুষের সমাগমের জন্য নেতাকর্মীরা নিরলস কাজ করছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে ঠাকুরগাঁও-ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেন, ব্রিটিশ আমলের বিমানবন্দর চালু, কৃষিভিত্তিক ইপিজেট, একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ, বন্ধ হওয়া রেশম কারখানাটি পুনরায় চালু ও যানজট নিরসনে বাইপাস সড়কের প্রস্তাবনা তুলে ধরা হবে বলে এই সরকার দলীয় নেতা জানান।

media

ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সব ধরনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সাদা পোশাকে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

জেলা প্রশাসক মো. আকতারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁওয়ে জনসভা থেকে ৩৫টি কাজের উদ্বোধন করবেন ও ৩৩টি কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও বিজিবি সেক্টর মাঠে হেলিকপ্টারে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি বড় মাঠে ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জহিরুল ইসলাম।

জনসভায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

রবিউল এহসান রিপন/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :