চাষির মুখে সূর্যমুখীর হাসি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৪:০৩ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০১৮

যেদিকে চোখ যায়, শুধু সূর্যমুখী আর সূর্যমুখী। সূর্যমুখীর এমন হাসি দেখে নিজের হাসি কি আর বন্ধ রাখা যায়। তাই হাসছেন সূর্যমুখী ফুল চাষিরা।

মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি এবং বীজের দাম বেশি থাকায় এবারে অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে বরগুনার সূর্যমুখী চাষিদের। এরপরও বরগুনায় সূর্যমুখীর চাষকে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে বরগুনার কৃষি বিভাগ।

এবছরও ফলন ভালো হয়েছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগও নেই। তাই অধিক লাভের আশায় বুক বেঁধেছেন বরগুনার সূর্যমুখী চাষিরা।

Barguna-Pic

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছর কয়েক আগেও ডিসেম্বর মাস থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসেরও বেশি সময় অনাবাদি হয়ে থাকতো বরগুনার অধিকাংশ ফসলি জমি। কিছু কিছু ফসলি জমিতে কলাই ও মুগ ডাল চাষ হলেও তা দিয়ে খুব একটা লাভের মুখ দেখতেন কৃষকরা। এখন সেসব জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এক হাজার পাঁচশ ৩২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা সদরে সাতশ, আমতলীতে ২৩০, তালতলীতে ২৫০, বেতাগীতে পাঁচ, বামনায় সাত এবং পাথরঘাটা উপজেলায় ৩৪০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে।

বরগুনা সদর উপজেলার ১০ নং নলটোনা ইউনিয়নের গাজিমাহমুদ এলাকার একজন কৃষক আ. ছত্তার (৬০) বলেন, বছরের শুরুতে বৃষ্টি থাকায় অনেক কৃষক এবার সূর্যমুখীর চাষ করতে পারেনি। তবে গতবারের চেয়েও এবারের ফলন ভালো। বড় কোনো দুর্যোগ না হলে আশা করি এবার বাড়তি রোজগার হবে।

একই এলাকার কৃষক ইদৃস মিয়া (৩৪) বলেন, সূর্যমুখী চাষ আরও লাভজনক হত যদি বরগুনায় আধুনিক প্রযুক্তির একটি তেল শোধনাগার থাকতো।

Barguna-Pic

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরগুনার উপ-পরিচালক সাইনুর আজম খান বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি থাকায় এবং বীজের দাম বেশি থাকায় এ বছর সূর্যমুখী চাষিদের বেশ খানিকটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

তিনি বলেন, একটা সময় উন্নয়ন সংগঠন ব্র্যাকের পক্ষ থেকে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ, সার এবং নানা কৃষি সহায়তা দেয়া হত। এখন কৃষকরা নিজেরাই তা চাষ করছেন। তবে বর্তমানে বীজের দাম প্রতি কেজি ১৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা হওয়ায় তুলনামূলকভাবে অনেক কৃষকের পক্ষে তা কিনে চাষ করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, সূর্যমুখী বীজের সহজলভ্যতা এবং স্থানীয়ভাবে একটি আধুনিক তেল পরিশোধনাগারের ব্যবস্থা করা গেলে সূর্যমুখী চাষে আরও আগ্রহী হয়ে উঠতেন চাষিরা।

মো. সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।