দীপ্তকে নিয়ে শঙ্কায় তার মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ১১ মে ২০১৮

মাত্র চার বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে অভাব-অনটন ও দারিদ্রকে জয় করে অন্ধকার ঘরে আলো জ্বালিয়েছে দীপ্ত চক্রবর্তী। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সবাইকে। স্বপ্ন পূরণের সংগ্রামে হার মানেনি দারিদ্রের কাছে। হাসি ফুটিয়েছে দুঃখি মায়ের মুখে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় দীপ্ত চক্রবর্তী জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। ভালো ফলাফল করেও পরবর্তী শিক্ষাজীবন নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন তার মা। দরিদ্র মায়ের পক্ষে দীপ্তর লেখাপড়ার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীপ্ত ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হতে চায়। দীপ্তর এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে দুঃখি মায়ের মনে শঙ্কার পাহাড়।

ফরিদপুরের কানাইপুর ইউনিয়নের মৃগী গ্রাম দীপ্তর জন্মস্থান হলেও এখন কানাইপুর সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকায় ছোট একটি ভাড়া বাড়িতে মা সূচিত্রা চক্রবর্তী ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন। জীর্ন ঘরে থেকেও মেধাবী দীপ্ত দেখছে আকাশ ছোয়ার স্বপ্ন। তবে এ স্বপ্নপূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অভাব।

জিপিএ-৫ পাওয়া দীপ্ত চক্রবর্তী জানায়, দীপ্তর বয়স তখন মাত্র চার বছর। এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবা নারায়ন চক্রবর্তী মারা যান। এরপর থেকে বহু কষ্টে মা সূচিত্রা চক্রবর্তী দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। একটি এনজিওতে চাকরি নেন তিনি। ওইখান থেকে যা পান তা দিয়েই সংসারের খরচসহ পড়ালেখার খরচ চলে দুই ভাই বোনের।

দীপ্ত জানায়, ৫ম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় সে। পরে জেএসসিতেও জিপিএ-৫ পায়। সে আরও জানায়, স্কুলের চঞ্চল স্যার, কুমারেশ স্যার ও বিপ্লব স্যার আমাকে সব সময় সহযোগিতা করেছে এ সাফল্য অর্জনে। ভবিষ্যতে আমি একজন প্রকৌশলী হতে চাই। কিন্তু দারিদ্রতার কারণে হয়তো আমার এ স্বপ্ন পূরণ হবে না।

দীপ্ত চক্রবর্তীর মা সূচিত্রা চক্রবর্তী জানায়, দীপ্তর বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে তার চিকিৎসা করাতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। সব কিছু বিক্রি করে তার চিকিৎসা করি, কিন্তু তাকে বাঁচাতে পারিনি। পরে সংসারের প্রয়োজনে আমি একটি এনজিওতে চাকরি নেই। চাকরি থেকে যে বেতন পাই তা দিয়েই কোনোরকমে সংসার চালিয়ে ছেলে দীপ্ত ও মেয়ে সুস্মিতাকে পড়ালেখা করাই।

স্থানীয় বর্ণমালা স্কুলের পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই দীপ্ত অনেক লড়াইয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। দীপ্ত মেধাবী ছাত্র। ছোট থেকেই আমাদের সামনেই বড় হয়েছে। দারিদ্রতার কারণে দীপ্তর লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একটি মেধাবী মুখ শুধুমাত্র অর্থের অভাবে তার মেধাকে বিকশিত করতে পারবে না এটা ভাবতে কষ্ট লাগছে। সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাই দীপ্তর পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য।

কানাইপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মো. শাহজাহান মোল্যা জানান, দীপ্ত অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। এ বছর এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। জেএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিল সে। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করে এ পর্যন্ত এসেছে দীপ্ত। তিনি জানান, স্কুল থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দীপ্তকে করা হয়েছে।

এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।