হাসপাতাল থাকলেও নেই ওষুধ-ডাক্তার-নার্স

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ১০:৪৬ এএম, ১৪ জুন ২০১৮

রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় হাসপাতালটি বর্তমানে সমস্যায় জর্জরিত। ওষুধ নেই, ডাক্তার নেই, নার্স নেই, নেই প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী। চাহিদামতো ওষুধ সরবরাহ না পাওয়া আর চিকিৎসা সংক্রান্ত জিনিসপত্রের অভাবে রেলওয়ের হাজারো কর্মচারী সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, লোকবলের অভাবে ২৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। নেই এক্স-রে সহকারী, ল্যাবরেটরি সহকারী, শুধুমাত্র ফিল্মের অভাবে এক্স-রে হয় রাজশাহীতে। ফার্মাসিস্ট ও ক্লিনার থেকেও নেই। ৪৪ শয্যার হাসপাতালটিতে ডাক্তারসহ বিভিন্ন পদে ৫৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ৩৭ জন। এসব কারণে একজন ব্যক্তি পালন করেন দু-তিনটি পদের দায়িত্ব। এমবিবিএস ডাক্তার ৬ পদের বিপরীতে রয়েছে মাত্র দুইজন। হাসপাতালটিতে খুলনা থেকে সান্তাহার এবং জয়দেবপুর হতে রাজবাড়ী পর্যন্ত হাজারো রেলওয়ে চাকরিজীবী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে আসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি অলাভজনক এবং প্রায় বন্ধ প্রতিষ্ঠান চালু করে লাভজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। সেই প্রক্রিয়াতেই পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় হাসপাতালটিকে নতুন উদ্যোমে চালুর ব্যবস্থা করলে একদিকে যেমন বাড়বে রাজস্ব তেমনি অর্জিত হবে সরকারের সেই লক্ষ্য উদ্দেশ্য এবং সাফল্য। এতে এলাকার সাধারণ জনগন ভোগ করবে তাদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বৃটিশ আমলে তিন একর জায়গার ওপর নির্মিত হয় পশ্চিমাঞ্চল রেলের পাকশী বিভাগীয় হাসপাতাল। পাকশী পদ্মা নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা হাসপাতালটিতে বর্তমান চিকিৎসাসেবা তো দূরের কথা, নিজেই বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। হাসপাতালটি বহু প্রাচীন আমলে নির্মিত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ছাদ দিয়ে অঝরে পানি পড়ে স্যাঁত স্যাঁতে অবস্থা বিরাজ করে। সাধারণ রোগী ও চিকিৎসকদের পড়তে হয় চরম বেকায়দায়।

হাসপাতালটিতে বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ জন রোগী ইনডোর এবং আউটডোরে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। কিন্তু চাহিদামত সরবরাহ করা হচ্ছে না ওষুধ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। এক কথায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালটি এমন স্থানে যার আশপাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় কোনো দোকানপাট নেই। ফলে রোগীরা খাবার কিনতে পারে না। তাই এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন অনেকেই।

হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, এই পদে থাকার কথা তিনজন। রয়েছে মাত্র দুইজন। তাও আবার তিনি পালন করছেন দুইজনের দায়িত্ব। হাসপাতালে পাঁচজন এমবিবিএস থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র একজন।

হাসপাতালের দায়িত্বরত বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার সুজিত কুমার রায় বলেন, জনবল স্বল্পতার কারণে চরম অসুবিধায় রয়েছি। এ জন্য বেশ কয়েকটি দায়িত্ব পালন করছি। বর্তমানে রেলওয়েতে চলছে চরম লোকবল সংকট। হাসপাতালে আমি বাদে চারজন ডাক্তার থাকার কথা। অথচ কোনো ডাক্তার নেই। যেহেতু হাসপাতালটি রেল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মূলত সে কারণে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও লোকবল পাওয়া যাচ্ছে না।

যোগাযোগ করা হলে পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার (ডিআরএম) অসীম কুমার তালুকদার বলেন, এই হাসপাতালে নতুন ডাক্তার আসেন সময় কাটানোর জন্য। কিছুদিন অতিবাহিত হলেই তারা রেল থেকে বাইরে চলে যান। সে কারণে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। লোকবলের সংকট এবং চাহিদার কথা জানিয়ে আমরা রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি। নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হলেই হাসপাতালের শূন্য পদ পূরণ হবে।

আলাউদ্দিন আহমেদ/এএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :