যশোরে সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘কচুরিপানা দিয়ে হস্তশিল্প তৈরি’ ও ‘নারীদের গাভী পালন প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের টাকা পকেটস্থ করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক গণশুনানি শেষে তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুর সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সভাপতি সাইদ হাফিজের অভিযোগ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ‘কচুরিপানা দিয়ে হস্তশিল্প তৈরির’ জন্য তাকে এডিবির একটি প্রকল্পের কাজ দেয়া হয়। এই প্রকল্পে এডিবি এক লাখ টাকা বাজেট নির্ধারণ করে প্রকল্পের সভাপতি রণজিৎ দাশকে দেয়। কিন্তু রনজিৎ দাশ প্রকল্পে ৪০ হাজার টাকা খরচ করেন। কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য বাকি টাকা চাইতে গেলে ওই টাকা খরচ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া রনজিৎ দাশ ‘গঙ্গানন্দপুর সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি’র রেজিস্ট্রেশনের সময় জেলা সমবায় কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে ১৫ হাজার টাকা নেন। অথচ রেজিস্ট্রেশনের খরচ মাত্র ৩৪৫ টাকা। পরে সমবায় সমিতির সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হলে তারা এর প্রতিবাদ করেন।
আরেক অভিযোগে গঙ্গানন্দপুর নারী উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য এলিজা শিরিন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়ালকে জানান, প্রশিক্ষণ না দিয়েই ‘উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধা বঞ্চিত নারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন’ প্রকল্প থেকে অর্থ সরিয়েছেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা। এ ছাড়া ৬টি প্রশিক্ষণে বরাদ্দের এক লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে ব্যয় করেছেন মাত্র ৬০ হাজার টাকা। বাকি তিনি অর্থ পকেটস্থ করেছেন। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ না দিয়েই সদস্যদের প্রশিক্ষণের ব্যাংক ভাউচারে স্বাক্ষরের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এলিজা শিরিন স্বাক্ষর করতে না চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
গত ২৭ জুন বুধবার অভিযোগের গণশুনাণি শেষে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল অভিযোগ তদন্তের জন্য ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে ঝিকরগাছার সমবায় কর্মকর্তা রনজিৎ দাশ বলেন, ‘কচুরিপানা প্রকল্পের ১ লাখ টাকার কথা বলা হলেও মূলত প্রকল্পের বরাদ্দ ৯০ হাজার টাকা, যা অভিযোগকারী সাইদ হাফিজ নিজেই খরচ করেছেন। যা রক্ষিত ভাউচার দেখলে বোঝা যাবে। আর নারী উন্নয়ন সমিতির ট্রেনিংয়ের টাকার ব্যাপারে যে অভিযোগ উঠেছে তা সমিতির সদস্যদের কাছে জানলে সত্যতা পাওয়া যাবে। এর ভাওচারও তার দফতরে রয়েছে। এছাড়া সমবায় রেজিস্ট্রেশনের কর্তৃপক্ষ যেহেতু তিনি নন সেহেতু রেজিস্ট্রেশনের জন্য টাকা নেয়ার সুযোগ নেই।’
এ বিষয়ে যশোর জেলা সমবায় কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক জানান, বিষয়টি আমাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। ১ জুলাই ঢাকা থেকে কর্মকর্তা আসবেন। আমরা সরেজমিনে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নেবো।
মিলন রহমান/আরএ/এমএস