ছেলেকে বাঁচাতে বাবার আকুতি

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৫:০৭ পিএম, ১৭ জুলাই ২০১৮

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সমর কর্মকার (১১) জন্মের পর থেকেই হার্টের সমস্যায় ভুগছে। ছেলের চিকিৎসার জন্য বাবা শংকর কর্মকার ভিটে-বাড়ি বিক্রি করেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারেননি। তাই ছেলেকে বাঁচাতে বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন শিশুটির গার্মেন্ট শ্রমিক বাবা শংকর কর্মকার ও মা রেখা রানী কর্মকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বরাটি গ্রামে শংকর কর্মকার পরিবার নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। তার ছেলে সমর কর্মকার জন্মের এক বছর পর হার্টের রোগে আক্রান্ত হয়। ২০০৮ সালে ঢাকার ধানমন্ডি ক্লিনিকে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তার হার্টের সমস্যা নিশ্চিত করেন। পরে ২০০৯ সালের জুলাই মাসে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরাও তার একই রোগের কথা জানান।

দেড় বছর আগে তিনি টাঙ্গাইল সদরের দেশবন্ধু হাসপাতালের চিকিৎসক তাপস কান্তি ভৌমিকের পরামর্শ নিয়ে ছেলের চিকিৎসা করাতে থাকেন। এতে শংকর কর্মকারকে ভিটে-বাড়ি বিক্রি করতে হয়। এক সময় তিনি সব বিক্রি করে নিঃস্ব হন। ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় ছেলের চিকিৎসা অব্যাহত রাখেন তিনি। সর্বশেষ ছেলের চিকিৎসার জন্য বাবা-মা গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় গার্মেন্টে চাকরি নিয়েছেন।

শংকর কর্মকার জানান, সমর জন্মের এক বছর পর হার্টের রোগে আক্রান্ত হয়। দীর্ঘ দশ বছর ধরে ছেলেকে সুস্থ করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি এখন নির্বিকার। ছেলের চিকিৎসা চালাতে তারা স্বামী-স্ত্রী গার্মেন্টে এ চাকরি নিয়েছেন। মাস শেষে যে টাকা বেতন পান তাতে ছেলের চিকিৎসা করাতে না পেরে ছেলেকে বাঁচাতে বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন। হার্টের সমস্যার পাশাপাশি সমরের পাশের দুটি রগে জোড়া লেগেছে। এতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। অর্থের অভাবে ছেলের অপারেশন করাতে পারছেন না বলে তিনি জানান। শিশু সমর কর্মকারের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য ০১৭১৪৩২১৪৯৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

এস এম এরশাদ/আরএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :