বাউরখুমা আশ্রয়ন প্রকল্পের জরাজীর্ণ দশা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ১০:২৮ এএম, ২০ জুলাই ২০১৮

সংস্কারহীনতায় ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে ফেনীর পরশুরামের বাউরখুমা আশ্রয়ন প্রকল্প। চালু হওয়ার পর থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত কোনো সংস্কার না হাওয়ায় প্রকল্পটির বসতঘরের টিনগুলো মরিচা ধরে ঝরে পড়ছে। নষ্ট হয়ে গেছে শৌচাগার, নেই খাবার পানির ব্যবস্থাও। এমতাবস্থায় প্রকল্পে বসবাসকারী প্রায় ৫০০ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গৃহ ও ভূমিহীন মানুষের জন্য সরকার ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে বাউরখুমা গ্রামে ২০ একর খাস ভূমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মাণ করে। আশপাশের বসতিহীন অসহায় ও দুর্বল ৬০টি পরিবারকে এখানে সংস্থাপন করা হয়। এখানকার বসবাসকারীদের সুবিধার্থে ৬টি ব্যারাকের প্রতিটির পাশে স্থাপন করা হয় একটি করে শৌচাগার ও চাপকল। ২০০০ সালের ২২ জুলাই তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেক বাউরখুমা আশ্রয়ন প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

সরেজমিন পরিদর্শনে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প উদ্বোধনের পর থেকে বিগত ১৮ বছরে কোনো ধরনের সংস্কার কাজ করা হয়নি। ৬টি ব্যারাকের বিভিন্ন স্থানে চাউনির কাঠ ভেঙে পড়েছে। উপরের সবগুলো টিন মরিচায় নষ্ট হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে চারদিকের টিনের বেড়া। ৬টি শৌচাগারের সবগুলোরই টিন ও বেড়া ভেঙে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই রাতের আঁধারে খোলা জায়গায় শৌচ কাজ সারছেন। এতে করে দিন দিন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে প্রকল্প এলাকার বাসিন্দাদের।

এছাড়াও চাপকলগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খাবার পানি সঙ্কটে থাকতে হয় তাদের। তারপরও দিনহীন বাসিন্দারা নিজস্ব যোগানের মাধ্যমে কেউ কেউ নিজেদের নামে বরাদ্দকৃত কক্ষের টিন ও বেড়া সংস্কার করে কোনো রকম দিনাতিপাত করছেন।

এদিকে অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে স্কুলে যাচ্ছে না এখানকার প্রায় ৫০ শিশু। তারা দিনভর এদিক সেদিক ছুটোছুটি করে দিন কাটায়। আবার কেউ কেউ কম দামে শিশু শ্রম খেটে উপার্জন শুরু করেছে। পাশে বাউরখুমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও পড়ালেখার প্রতি গুরুত্ব নেই কারও।

feni

আশ্রয়নের বাসিন্দা রাহেনা আক্তার (৪০) ও বেলাল হোসেন (৩৮) জানান, কখনো ঘুমের ঘরে বৃষ্টি শুরু হলে সন্তানদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই তিনি তার নামে বরাদ্দকৃত ঘরের ওপরে টিনের বদলে প্লাস্টিকের ছামিয়ানা দিয়ে কোনো রকম দিন পার করছেন।

কুলসুমা বেগম (৫২) বলেন, বৃষ্টি শুরু হলে ভাঙা টিন দিয়ে পানি ঢোকে। ঘরের দরজা জানালাগুলো ভেঙে গেছে। তাই সব সময় পরিস্থিতির সঙ্গে যুদ্ধ করে থাকতে হচ্ছে। এখানকার বাসিন্দাদের কারো কারো দিন পাল্টে যাওয়ায় তারা নিজেদের নামে বরাদ্দকৃত কক্ষটি ভাড়া দিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি আলী এরশাদ, সহ-সভাপতি আবদুল মান্নান, সেক্রেটারি মমতাজ মিয়া প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ঘরে বহিরাগত লোক রেখে পরশুরাম বাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন বলে বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি আলী এরশাদ বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ব্যবসায়ীক কারণে তিনি পরশুরাম বাজারের ভাড়া বাসায় থাকেন। তবে প্রকল্পের বাসিন্দাদের ভালো রাখতে তিনি সব সময় কাজ করে যাচ্ছেন।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান উদ্দিন মুরাদ জানান, এটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। বরাদ্দ সাপেক্ষে তিনি আশ্রয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সংস্কার শুরু করবেন বলে জানান।

এফএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :