কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন স্বাভাবিক
চলতি বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই লেকে পর্যাপ্ত পানি বাড়ায় কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। সচল হয়েছে কেন্দ্রের সবগুলো ইউনিট। ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ওই কেন্দ্রের মোট ৫ ইউনিট দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়েও অধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
তারা জানান, লেকে অতিরিক্ত পানির চাপ কমাতে রাতদিন কেন্দ্রের সবগুলো ইউনিট সচল রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। বর্তমানে দৈনিক সর্বোচ্চ ২৩৭ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক বর্ষণে কাপ্তাই লেকের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি চলে গেছে। লেকে পানির চাপ কমাতে কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্প্রিলওয়ের মোট ১৬টি গেট খুলে দিয়ে টানা ৪৮ ঘণ্টাব্যাপি প্রতি সেকেন্ডে ১৮ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই লেক থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এরপরও বর্তমানে কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত রয়ে গেছে বলে জানান কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আব্দুর রহমান।
তিনি জানান, কাপ্তাই লেকের রুলকার্ভ অনুযায়ী লেকে স্বাভাবিক নিয়মে পানি ধরে রাখা যায় ৯০ ফুট বা এমএসএল (মীন সি লেভেল) উচ্চতায়। কিন্তু চলতি মৌসুমে ভারী বর্ষণে কাপ্তাই লেকে দ্রুত পানি বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম করে তা ১০৫ ফুট পর্যন্ত হয়ে ওঠে। লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট। এর কাছাকাছি গেলে বিপদসীমায় চলে যায়। টানা ৪৮ ঘণ্টাব্যাপি পানি ছাড়ার পরও বর্তমানে লেকে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫ ফুট পানি অতিরিক্ত রয়েছে।
কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক বলেন, কর্ণফুলি পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি কাপ্তাই লেকের পানির ওপর শতভাগ নির্ভরশীল। লেকে পরিমাণমতো পানি থাকলে স্বাভাবিক উৎপাদন সম্ভব হয়। বর্তমানে লেকে অতিরিক্ত পরিমাণ পানি থাকায় কেন্দ্রে পূর্ণমাত্রার চেয়েও অধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
সুশীল প্রসাদ চাকমা/এসএস/এমএস