বরগুনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৯:৪৫ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৮

প্রতিবেশী এক গৃহবধূর পরকীয়ায় বাধা দেয়ার অভিযোগে এক যুবককে মারধরের পর চোখ উৎপাটন করে হত্যার অভিযোগে বরগুনায় এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

বুধবার রাতে বরগুনা সদর থানায় মামলাটি করেন নিহত আল-আমীনের মা রাশেদা বেগম। নিহত আল-আমীন বরগুনা সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ হেউলিবুনিয়া গ্রামের মো. ইউনুচের ছেলে। আল-আমীন একটি হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন।

মামলায় বরগুনা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. গোলাম আহাদ সোহাগকে পরকীয়া প্রেমিক উল্লেখ করে ৬নং আসামি এবং সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ হেউলিবুনিয়া গ্রামের দুই নারীসহ স্থানীয় ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত আল-আমীনের প্রতিবেশী গৃহবধূর সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আহাদ সোহাগের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি আল-আমীন জানতে পেরে তাদের বাধা দেয়। এছাড়া মামলার অন্য আসামিরা তার পূর্ব শত্রু ছিল।

তাই পরকীয়া প্রেমে বাধা ও পূর্ব শত্রুতার জেরে আল-আমীনকে গত ১২ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দক্ষিণ হেউলিবুনিয়া গ্রামের একটি গ্যারেজের ভেতরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে আহত ও চোখ উৎপাটন করা হয়। ১৩ আগস্ট রাত পৌনে ৩টার দিকে আল-আমীন বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম আহাদ সোহাগ বলেন, আল-আমীনের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সে দক্ষিণ হেউলিবুনিয়া ও আশপাশের এলাকার নিরীহ মানুষকে মারধর করতো। এ নিয়ে অভিযোগ করেও প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসী। গত ১২ আগস্ট ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আল-আমীনকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আল-আমীনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। একটি মহল আমাকে ফাঁসানোর জন্য গণপিটুনিকে হত্যা উল্লেখ করে আমাকে মামলার আসামি করেছে।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদুজ জামান বলেন, আল-আমীন নিহতের ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মো. সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এএম/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :