ঈদে ভিড় বেড়েছে লালমনিরহাটের দর্শনীয় স্থানগুলোতে
ঈদ আনন্দে ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় মুখর হয়েছে উঠেছে লালমনিরহাটের দর্শনীয় স্থানগুলো। আনন্দ-উল্লাস আর নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে উপভোগ করেছেন নানা বয়সের মানুষ। ঈদে ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা পরিবারগুলো ঈদের প্রথম দিন থেকেই ভিড় করছে লালমনিরহাটের কাকিনা-মহিপুর তিস্তা দ্বিতীয় সড়ক সেতু, তিস্তা ব্যারাজ, তিন বিঘা করিডোর, বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট, শেখ রাসেল শিশু পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলো। প্রচণ্ড তাপদাহকে উপেক্ষা করে একটু আনন্দ পেতে ভিড় জমায় শিশু কিশোর-কিশোরী ও নানা বয়সী মানুষ।

এবার জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নতুন মাত্রায় যোগ হয়েছে লালমনিরহাটের কাকিনা-মহিপুরের দ্বিতীয় তিস্তা সেতু। তাই এবার রংপুর বিভাগের বিনোদন কেন্দ্রগুলো ভিড় না থাকলেও তিস্তা দ্বিতীয় সেতুতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ঈদের তৃতীয় দিনও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাজারো মানুষের ভিড় দেখা গেছে সেতুটিতে। লোকজনের সমাগমে সেখানে আনন্দের জোয়ার বইছে। সব বয়সী মানুষের ভিড় জমলেও সিংহভাগ দখল করে রেখেছে তরুণ-তরুণীরা। কিছুক্ষণের জন্য তারা আনন্দের রাজ্যে হারিয়ে যাচ্ছেন। সেতুটির রাস্তার দুপাশে সারি সারি নানা প্রজাতির গাছ-গাছালির সমারোহ। পানি আর সবুজ মিলে সে যেন এক অন্য রকম অপরূপ দৃশ্য। দেখে মনে হয় যেন এক সমুদ্র সৈকত। এ ছাড়া নদীর বুকে ভাসমান নৌকা নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের। অনেকেই আবার প্রিয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনে বন্দি করছেন।

এ দিকে ঈদে পর্যটন কেন্দ্রগুলোর কোথাও যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্তক অবস্থায় রয়েছেন।
ঘুরতে আসা রংপুর তারাগঞ্জ উপজেলার স্কুল শিক্ষক আজিজার রহমান বলেন, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে নতুন সেতুটি দেখার জন্য পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে এসেছি। সেতুটি চারপাশ দেখে আমার অনেক ভালো লেগেছে।
মহিপুর এলাকার দুলাল হোসেন বলেন, ঈদের আনন্দে হাজার হাজার মানুষ সেতুটি দেখার জন্য আসছে। আমারা স্থানীয়রা ভ্রমণরত মানুষদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতার চেষ্টা করছি।

লালমনিরহাট স্থানীয় সরকার প্রকৗশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্র জানান, বাংলা ১ বৈশাখ ১৪ এপ্রিল ২০১৮ লালমনিরহাটের কাকিনা-মহিপুর তিস্তা দ্বিতীয় সড়ক সেতুটি সবার জন্য উন্মুক্ত হয়। ১২১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ফুটপাথসহ ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুতে ১৬টি পিলার, ২টি অ্যাপার্টমেন্ট, ১৭টি স্প্যানে ৮৫টি গার্ডারের ওপর সেতুটি নির্মিত।
রবিউল হাসান/আরএ/আরআইপি