৫ মাস পর রূপগঞ্জে মজিদের মরদেহ

উপজেলা প্রতিনিধি রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৪:৩৪ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সৌদি আরবের রিয়াদে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার বিরাব এলাকার আওলাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল মজিদের মরদেহ ৫ মাস পর বাড়িতে এসেছে। এসময় পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

শনিবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ মজিদে বাবা আওলাদ হোসেনসহ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। বিকেলে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ সরকারের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিমানে করে আব্দুল মজিদের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌঁছায়।

নিহত আব্দুল মজিদের বাবা আওলাদ হোসেন জানান, চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি সৌদি আরবের রিয়াদে যায়। সেখানে প্রায় ৩ তিন মাস কোনো কাজ পাননি আব্দুল মজিদ। রিয়াদের আল নুরা ইউনির্ভাসিটি আবাসিক এলাকায় একটি ভবনের একটি রুমে ৭-৮ জনের সঙ্গে থাকতেন তিনি। কিন্তু দেশ থেকে টাকা পাঠালে পেটে খাবার জুটতো তার। এক পর্যায়ে মারা যাওয়ার ১২ দিন আগে সেখানকার ইউনিভার্সিটিতে ক্লিনারের কাজ পায়। প্রতিদিনের মতো রাতের কাজ শেষ করে ১৩ এপ্রিল (শুক্রবার) সকালে অন্যদের সঙ্গে রুমে ঘুমিয়ে পড়েন আব্দুল মজিদ। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল মজিদ খানসহ ৯ জন মারা যান। দুপুরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একই ভবনে থাকা রাশেদ খান নামে এক যুবক আব্দুল মজিদের বড় ভাই বাছেদ আলীকে মজিদের মৃত্যুর খবর জানায়। রিয়াদের সিমূসি হাসপাতাল মর্গে মজিদের মরদেহ রাখা ছিল। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করা হয়। এরপর নিহতের ৫ মাস পর সরকারী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিমানে করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

মজিদের পারিবারিক সূত্র জানায়, কাঞ্চন পৌরসভার বিরাব লালটেক গ্রামের আওলাদ হোসেনের তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে মেজো ছেলে আব্দুল মজিদ খান। সাত বছর আগে পার্শ্ববর্তী শিমুলিয়া এলাকার গোলজার ভূইয়ার মেয়ে ময়না বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের ঘরে আমেনা আক্তার নামে ৬ বছরের একটি মেয়ে আছে। আমেনা স্থানীয় বিরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিজের ভিটে মাটি ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। একটি ছোট টিনের ঘরে পরিবার নিয়ে অভাব অনটনের মধ্যে বসবাস করতেন আব্দুল মজিদ। বিয়ের পর সংসার চালাতে স্থানীয় ইটভাটায় কাজ করেছেন মজিদ। পরিবার ও নিজেকে স্বচ্ছল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আত্মীয় স্বজন, এনজিও ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সুদের ওপর ছয় লাখ টাকা ঋণ করে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি সৌদী আরবে পাড়ি জমান।

মীর আব্দুল আলীম/আরএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :