গাজীপুরে স্ত্রী ও ছাত্র হত্যার অভিযোগ মাদরাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ১০:০৬ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুরে মাদরাসা পরিচালকের স্ত্রী ও এক ছাত্র হত্যার ঘটনায় নগরীর বাসন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদরাসা পরিচালকের শ্বশুর ও নিহত মাহমুদা আক্তার স্মৃতির বাবা মো. হানিফ বাদী হয়ে বুধবার মামলাটি দায়ের করেন। এ জোড়া খুনের ঘটনায় মাদরাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিলকে প্রধান ও অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বাসন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তার হোসেন জানান, নিহত মাহমুদা আক্তারের বাবা মো. হানিফ বাদী হয়ে ইব্রাহিম খলিলকে আসামি করে বুধবার বিকেলে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ সময় নিহত ছাত্র মামুনের বাবা শাহিদও উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে। অভিযুক্ত মাদরাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, অন্য লোককে বাবা-মা সাজিয়ে মাহমুদা আক্তারকে বিয়ে করেন ইব্রাহিম খলিল। হেলেনা নামে তার আরেকটি স্ত্রী রয়েছে। বিয়ের সময় ইব্রাহিম খলিল প্রথম বিয়ের কথা গোপন করেন। মাহমুদা বিয়ের কিছু দিন পর ইব্রাহিম খলিলের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি টের পান। পরে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মাহমুদার পরিবার বিষয়টি মেনে নেন।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, তার মেয়ে মাহমুদাকে এবং ছাত্র মামুনকে ইব্রাহিম খলিলই খুন করেছেন। খুন করার আগের দিন সোমবার মাগরিবের নামাজের পর ছাত্রদের দিয়ে একটি দা ধার করান তিনি। । রক্তমাখা দা টি পুলিশ ঘটনাস্থলে মশারীর ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে। মাদরাসার পরিচালক ইব্রাহিম প্রতিদিন ফজরের নামাজের সময় সব ছাত্রদের নিয়ে মসজিদে যান। কিন্তু ঘটনার দিন ভোরে সব ছাত্রদের মসজিদে পাঠিয়ে দিয়ে নামাজ শুরুর এক মিনিট আগে মসিজদে যান। এ সময় তার লুঙ্গিতে রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া যায় এবং পানি দিয়ে রক্ত ধোয়ার চিহ্নও লুঙ্গিতে রয়েছে। প্রতিদিন ভোরে মসজিদে যাওয়ার সময় মাদরাসার মেইন গেটে তালা দিয়ে যান। ঘটনার দিন তিনি মেইন গেটে তালা না দিয়ে চলে যান। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ভোর ৫টা ১০ মিনিটের মধ্যে ইব্রাহিম খালিল ও অজ্ঞাতনামা ৩/৪জনকে নিয়ে তার মেয়ে মাহমুদা ও ছাত্র মামুনকে হত্যা করেছে বলে তিনি ধারণা করছেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের চান্দনা পূর্বপাড়া এলাকায় হুফফাজুল কোরআন মাদরাসার ভেতরে মাদরাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার স্মৃতি (২৫) ও ছাত্র মামুনকে (৭) নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ মাদরাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

আমিনুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :