গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে মঞ্জুরুল ইসলাম (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপাতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার গোয়ালদিঘী গ্রামের আজিজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপাতা গ্রামে অব্যাহত গরু চুরি ঠেকাতে কয়েক দিন ধরে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছিলেন গ্রামের কৃষকরা। ওই গ্রামের একই বাড়িতে একাধিকবার গরু চুরির ঘটনা ঘটে। গত এক বছরে এলাকায় ৩৫ থেকে ৪০ বাড়িতে গরু চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। গরু চোরের টানা উৎপাতে বেসামাল হয়ে পড়েছেন এলাকার লোকজন।
সোমবার গভীর রাতে মঞ্জুরুল ইসলাম নামে ওই যুবক সোনাপাতা গ্রামে আব্দুল বাছেদ ওরফে বাচ্চাউ’র বাড়িতে গরু চুরি করতে যায়। গরু নিয়ে বাইরে বের হওয়ার সময় বাড়ির লোকজন টের পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে তারা সোনাপাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে মঞ্জুরুল ইসলামকে ধরে ফেলেন। সেখানেই তাকে বেধরক মারপিট শুরু করা হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদ উপস্তিত লোকজনের সহায়তায় দ্রুত মঞ্জুরুলকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, আমাদের এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে একের পর এক গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। গত দেড় বছরে এখানে ৩৫ থেকে ৪০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। সোমবার রাতে গরু চুরির করে পালানোর সময় ওই যুবককে ধরে গণপটুনি দেয় লোকজন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মো. শাহ আলম বলেন, নিহতের পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতে মরদেহের রতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ওই গ্রামের অজ্ঞতনামা ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামিকরা হয়েছে।
সফিকুল আলম/আরএআর/পিআর