একদিনে ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়
তীব্র যানজটে বেনাপোল স্থলবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। স্থলবন্দরের কাগজপুকুর থেকে নো-ম্যানস ল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কে যানজট দেখা দেয়। এতে পথচারীসহ পাসপোর্টধারী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
মাঝেমধ্যে অনেকে পায়ে হেঁটে চেকপোস্টে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। দুইদিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সকল থেকে বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য লোড-আনলোড করতে আসা কয়েক হাজার ট্রাক একসঙ্গে বন্দরে প্রবেশ করে। পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকগুলো সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় বন্দরে তীব্র যানজট লাগে।
এদিকে, দুইদিন পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সকালে যান চলাচল শুরু হলে পণ্য খালাস করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ বিল অফ এন্ট্রির বিপরীতে প্রায় ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব জমা পড়েছে বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ট্রেজারি শাখায়। এতে একদিনে রাজস্ব আদায়ে নতুন রেকর্ড করল বেনাপোল বন্দর।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘটে রোববার ও সোমবার বেনাপোল বন্দর থেকে কোনো মালামাল খালাস হয়নি। মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য চালান খালাস প্রক্রিয়া শুরু হলে একসঙ্গে সব ট্রাক প্রবেশ করতে গিয়ে যানজট লেগে যায়।
সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজটও বাড়তে থাকে। বেনাপোলের কাগজপুকুর বাজার থেকে নো-ম্যানস ল্যান্ড পর্যন্ত শত শত বাংলাদেশি ও ভারতীয় পণ্যবোঝাই এবং খালি ট্রাক মূল সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

এছাড়া আমদানি করা ট্রাকের চেসিসও রয়েছে মূল সড়কের দুই পাশে। এসব ট্রাকের কারণে পরিবহন, প্রাইভেটকার, রিকশা-ভ্যান যাতায়াত করতে পারছে না। ফলে পথচারীসহ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
বিশেষ করে রোগী, নারী-শিশুদের কষ্টের শেষ নেই। কলকাতাগামী ও ঢাকাগামী বাসগুলো গন্তব্যে যাওয়ায় জন্য সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এতে করে বেনাপোল বন্দর এখন স্থবির। কখন পর্যন্ত যানজটমুক্ত হবে তা কেউ বলতে পারছেন না।
এদিকে পরিবহন ধর্মঘটে আটকা পড়া যাত্রীরা সকালেই বিভিন্ন পরিবহনে গন্তব্যে রওনা হয়ে গেছেন। যারা দেরি করেছেন কিংবা গাড়ির অপেক্ষায় থেকেছেন তারা এখন যানজটে আটকে আছেন।
বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী বলেন, বন্দর থেকে মালামাল ডেলিভারি নেয়ার জন্য মঙ্গলবার সকাল থেকে শত শত ট্রাক বন্দরের বিভিন্ন গেটে অবস্থান করছে। ব্যবসায়িক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল খালাস নেয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আজ বন্দর থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক বের হতে গভীর রাত হয়ে যাবে। তবে কখন পর্যন্ত যানজট কমবে তা জানি না।

বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক রকিবুল হাসান বলেন, অন্যান্য সময়ের চেয়ে মঙ্গলবার দ্বিগুণ কাস্টমসের রাজস্বের টাকা জমা পড়েছে। অন্যান্য দিন ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা জমা হলেও আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব জমা পড়েছে। রাত ৮টা পর্যন্ত রাজস্বের টাকা জমা হবে। সেই হিসাবে ৪০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। যা কয়েক বছরে একদিনে রাজস্ব আদায়ে নতুন রেকর্ড।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের এক কর্মকর্তা বলেন, বেনাপোল বন্দরে দৈনিক গড়ে ১৫ থেকে ১৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। ধর্মঘটে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় আমদানিকারকরা পণ্য খালাস নেন না। ফলে রাজস্ব ঘাটতি দেখা দেয়। তবে পরের দিন তা সমন্নয় হয়ে যায়। ধর্মঘটের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মঙ্গলবার শুল্ক হাউজের সব কর্মকর্তাকে দ্রুত কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বেনাপোল স্থল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) প্রদোষ কান্তি দাস বলেন, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে এরকম অচলবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য খালাসের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাতের মধ্যেই সব শুল্ক পরিশোধকৃত পণ্য খালাস দেয়া হবে।
মো. জামাল হোসেন/এএম/এমএস