পিটিয়ে ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে কিশোরকে হত্যা
কক্সবাজারের খুরুশকুলে এক কিশোরকে পিটিয়ে ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেল ৫টার দিকে খুরুশকুলের কোনারপাড়ার পালপাড়া বাজারের জাকের হোসেন বাক্কুর গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। খুরুশকুল ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মুহাম্মদ মামুন উদ্দিন (১৪) খুরুশকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোনারপাড়া এলাকার জেলে নবিউল হকের ছেলে ও পেশায় হোটেল বয়।
নিহত মামুনের মা হাজেরা বেগম রোববার রাতে জানান, মামুন কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা এলাকার একটি হোটেলে বয়ের কাজ করত। কাজ শেষে রোববার দুপুর ২টার দিকে সে বাড়িতে যায়। তার সমবয়সী প্রতিবেশী মো. আলম মাঝির ছেলে আব্বাস উদ্দিন, নবাব মিয়া, মৃত সোলতান আহমদের ছেলে কাজল ও ফরিদ আলমের ছেলে নুরুল হুদারা টমটম নিয়ে মামুনসহ পার্শ্ববর্তী পিএমখালীতে বেড়াতে যায়। সেখানে শিবুল ডাকাত নামে এক যুবক তাদের টমটম আটকিয়ে সবাইকে বেঁধে রাখে। এক ফাঁকে মামুন কৌশলে বাঁধন খুলে পালিয়ে আসে।
তিনি আরও জানান, পরে শিবলু টমটমটি রেখে দিয়ে বাকিদেরও ছেড়ে দেয়। তারা এসে মামুন পালিয়ে আসায় টমটম রেখে দিয়েছে দাবি করে তাকে ধরে নিয়ে যায়। তাকে টমটম মালিক জাকের হোসেন বাক্কুর গ্যারেজে নিয়ে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালায় তারা। এতে মামুন অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ছেলেকে মারের হাত থেকে বাঁচাতে গেলে তাকেও লাথি-ঘুষি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় মারধরকারীরা। এরপরও তাদের হাতপায়ে ধরে মামুনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অমানবিক ও দুঃখজনক। অন্য এলাকার একজন অপরাধী কারো একটি টমটম আটকে রাখার অপরাধে একজন কিশোরকে দায়ী করে এভাবে প্রহার ও মেরে ফেলা কোনো মতেই সমর্থন যোগ্য নয়। আমরা চাই হত্যায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/জেআইএম