ছাত্রনেতা থেকে জননেতা
রাজনীতির মাঠে দ্বিতীয় গোপালগঞ্জখ্যাত আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি রয়েছে গাজীপুরের। জাতীয় নির্বাচনে খুব একটা হারের দেখা পেতে হয়নি দলটিকে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তন হয়েছে। আর জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে এবার গাজীপুর-৩ সংসদীয় আসনে প্রার্থিতায় দিয়েছে চমক। এ আসনে নৌকার মাঝি হয়েছেন গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে আসনটির প্রার্থী পরিবর্তন হয়। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়ার কারণে ৬ বারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রহমত আলী এবার মনোনয়ন চাননি বলে জানা গেছে।
তরুণ প্রার্থী হিসেবে ইকবাল হোসেন সবুজকে মনোনয়ন দেয়ায় ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে উচ্ছ্বাস। শহরের অলিগলি ও গাঁয়ের মেঠো পথের মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক বাঁশ-কাপড় দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি নৌকা। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে অলিগলি। নিজ উদ্যোগে ভোটাররাই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রচার কাজ চালাচ্ছেন।

জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ইকবাল হোসেন সবুজকে মনোনয়ন দেয়ায় বিরোধীপক্ষ অনেকটাই কোণঠাঁসা অবস্থায় রয়েছে। সবুজ ইতোমধ্যেই শ্রীপুরকে মানবিক শহর গড়ার ডাক দিয়েছে। আর তার দাবি, ডাকে সবাই সাড়া দেয়ায় এখন আর সুবিধা করে উঠতে পারছে না বিরোধীপক্ষ।
ইকবাল হোসেন সবুজের বয়স এখন পঞ্চাশের কাছাকাছি। স্থানীয় একটি ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে অভিষেক তার। এরপর গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর তিনি গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এরই মধ্যে ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো শ্রীপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে দায়িত্বপালন করেন। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলাজুড়ে প্রতিটি গ্রামের অলিগলি ঘুরে পাঁচশত উঠান বৈঠক করে সারা ফেলে দেন আর তৃণমূলে গড়ে তুলেন নিজের অবস্থান। সর্বশেষ তিনি গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বর্তমান সংসদ সদস্য ও তার পরিবারের সদস্যদের পাশ কাটিয়ে বাগিয়ে নেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন টিকিট।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রীপুর পৌর মেয়র আনিছুর রহমান জানান, শ্রীপুরের মানুষ স্বাধীনতার পর থেকেই আওয়ামী প্রীতি। এর কারণেই নির্বাচন এলে ভোটাররা কোনো চাওয়া পাওয়ার হিসাব করে না। আর ইকবাল হোসেন সবুজ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায় নির্যাতিতা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আপন করে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন। আর তারাই এখন তাকে নিরাপদ আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

নিজের লক্ষের কথা জানিয়ে ইকবাল হোসেন সবুজ জানান, তার রাজনীতির দর্শনই হচ্ছে অবহেলিত, নির্যাতিত ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে সেবা করা। আর তিনি নির্বাচিত হতে পারলে শ্রীপুরকে মানবিক শহরে পরিণত করবেন। যেখানে থাকবে না কোনো হানাহানি, মারামারি, থাকবে না কোনো ভূমিদস্যু। সাধারণ মানুষ, নেতাকর্মীসহ সকলেই বাধা থাকবে সম্প্রীতির বাঁধনে।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা ও সদর উপজেলার ভাওয়ালগড়, মির্জাপুর ও পিরুজালি ইউনিয়ন গঠিত গাজীপুর ৩ সংসদীয় আসন। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭২০ জন। আওয়ামী লীগের ইকবাল হোসেন সবুজ ছাড়াও নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে ইকবাল সিদ্দিকী, ইসলামী আন্দোলনের রহমত উল্লাহ, বাসদের মফিজউদ্দিন, জাতীয় পার্টির আফতাব উদ্দিন, জাকের পার্টির নাসির উদ্দিন ও তরিকত ফেডারেশনের রফিকুল ইসলাম।
শিহাব খান/এমএএস/আরআইপি