এলাকাছাড়া চরাঞ্চলের মানুষ, ভোট দেবেন কে?

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী
প্রকাশিত: ০১:৩০ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮

নির্বাচনের আমেজ নেই নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে। একের পর এক টেঁটাযুদ্ধের ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে ও মামলার আসামি হয়ে চরাঞ্চলের জনসংখ্যার অর্ধেকই এখন এলাকাছাড়া। নির্বাচনে তাদের ভোট প্রদানও অনেকটাই অনিশ্চিত।

এদিকে বিএনপির দাবি, চরাঞ্চলে এলাকাছাড়া এসব মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগও বলছে উভয় পক্ষ চরাঞ্চলে প্রবেশ করলে ফের সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রশাসন বলছে ভোটাররা কেন্দ্রে এলে তাদের নিরাপত্তা দেয়া হবে।

Narsingdi

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত ৮টি ইউনিয়ন নিলক্ষ্যা, বাঁশগাড়ী, চরমধূয়া, মির্জারচর, পাড়াতলী, চাঁনপুর, শ্রীনগর এবং চরআড়ালিয়া চরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। রায়পুরা উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নরসিংদী-৫ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭০ হাজার ৬৯৯ জন। এদের মধ্যে চরাঞ্চলের ৮টি ইউনিয়নের মোট ভোটার এক লাখ ২ হাজার ২৭ জন।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে টেঁটাযুদ্ধ অনেকটা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছরে চরাঞ্চলের ৮টি ইউনিয়নে টেটাবল্লম ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের লড়ায় চলে আসছে। ছয়বারের ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহতসহ বহুলোক টেটাবল্লম ও গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। ফলে এ ইউনিয়নগুলোতে কয়েক হাজার ভোটার বাড়িঘর ছেড়ে পলাতক রয়েছেন। প্রতিপক্ষের বিভিন্ন মামলায় আরও কয়েক হাজার ভোটার আসামি হয়ে এখন এলাকাছাড়া। যারা গ্রামে অবস্থান করছে তারাও পেশিশক্তির হাতে জিম্মি।

Narsingdi

বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, এত বিপুল সংখ্যাক লোককে নির্বাচনের বাইরে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে সকলের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছি।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু বলেছেন, চরের মানুষকে বিশ্বাস করা কঠিন। ভোট দেবে, এটা কোনো সমস্যা না। তবে এর সুযোগে ফের সংঘাত হোক এটা কাম্য নয়।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন বলেন, ভোটারদের বাড়ি থেকে আনার দায়িত্ব প্রশাসনের নয়। চরাঞ্চলে ভোট প্রদানে কোনো বিধি নিষেধ নেই। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কেন্দ্রে এলে তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়া হবে।

সঞ্জিত সাহা/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :