যমুনা নদীর পানি বিপদ সীমার উপরে


প্রকাশিত: ০৯:৩৪ এএম, ২৪ আগস্ট ২০১৫

যমুনা নদীর পানি অব্যহতভাবে বাড়তে থাকায় সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।  গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে সোমবার দুপুরে তা সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদ সীমার ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  এদিকে সিরাজগঞ্জের বাহুকায় রিং বাঁধের ২শ মিটার এলাকা ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় কয়েকশ বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে।  ফলে বন্যা প্রতিরোধে বিকল্প হিসেবে নির্মিত রিং বাঁধটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।  এছাড়া কাজিপুরের ৮টি ইউনিয়ন, মাইজবাড়ী ঢেকুরিয়া, শুবগাছা, খাসরাজবাড়ি, চরঘিরিস, নিশ্চিন্তপুর, মুনসুর নগর, তেকানি, নাটুয়ারপাড়াসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রামগুলোর নিম্নাঞ্চলসহ বাজার, কৃষি জমি ও বসত বাড়ি নতুন করে প্লাবিত হয়ে পড়েছে।  

বেলকুচি, শাহজাদপুর ও কাজিপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ কাঁচা ও পাকা রাস্তা এখন পানির নিচে।

অপরদিকে সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের বালিঘুঘরী, শিমলা পাঁচঠাকুরী, ইটালী, ভাটপিয়ারী, পারপাচিলসহ আশেপাশের এলাকাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।  এছাড়া নদীর চরাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় এ সকল এলাকার মানুষ বেশি বিপদে পড়েছে।  অনেক চরে মানুষ খেয়ে না খেয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে।

কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে ঢেকুরিয়া হাট ও হাট সংলগ্ন পাঁকা রাস্তাটি এখন পানির নিচে।  এ ছাড়াও এই উপজেলার বিলচিতল, মেঘাই, কুনকুনিয়া, পলাশপুর, পাইকরতলী, হাটগাছা মলি­কপাড়ার বহু মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।  বন্যার্তদের জন্য এখনো সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ এসে পৌঁছেনি।  ত্রান পৌঁছামাত্র তা বিতরণ করার সকল প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, পানি বৃদ্ধি আরো ২দিন অব্যাহত থাকবে।  নদীর অভ্যন্তরে বাধ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও বাহুকার রিং বাঁধ এখনো ঝুঁকি মুক্ত রয়েছে।  এছাড়া জেলার কোনো বাঁধে এখনো কোনো ঝুঁকি না থাকায় পরিস্থিতি তেমন খারাপ হবার সম্ভাবনা নেই।

জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা ওয়ালি উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ৭৩টি গ্রামে পানি ঢুকেছে।  অনেক এলাকার রাস্তাঘাটও ডুবে গেছে।  পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।  ত্রাণ এসে পৌছলেই তা দ্রুত বিতরণ করা হবে।  বন্যা পরবর্তী পূনর্বাসনে সকল এলাকায় মনিটরিং করা হচ্ছে।

বাদল ভৌমিক/ এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।