নাব্য-সঙ্কটে দৌলতদিয়ায় আটকে থাকছে পণ্যবাহী জাহাজ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ১০:২৩ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৯

দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ী নৌপথের পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে নাব্য-সঙ্কটের পাশাপশি ছোট-বড় অসংখ্য ডুবচরের কারণে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা উত্তরাঞ্চলগামী বিভিন্ন পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমানে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার ৬নং ফেরি ঘাটে প্রায় ৪০টি জাহাজ নোঙর করা হয়েছে। সেখান থেকেই ছোট ছোট বলগেট ও ট্রলারে মালামাল লোড করে নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ীর উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। এতে পণ্য পরিবহনে সময় বাড়ার পাশাপশি খরচও বাড়ছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়ার ৬নং ফেরি ঘাট এলাকায় সার, কয়লা, সিমেন্ট, গম, ভুট্টা, ক্লিংকার, পাথর নিয়ে নোঙর করে আছে ৪০টির অধিক কার্গো জাহাজ। বড় জাহাজগুলোর পণ্য ছোট ছোট জাহাজে আনলোড করছেন শ্রমিকরা। লোড-আনলোড শেষে বলগেট ও ট্রলারগুলো সিরাজগঞ্জ ও পাবনার নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ীর উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম, মংলা এবং নারায়ণগঞ্জ নৌবন্দর থেকে পণ্যবাহী জাহাজ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া দিয়ে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী নৌবন্দরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যায়। পাবনার আগে পদ্মা নদীতে সাড়ে ১২ থেকে ১৩ ড্রাফটের জাহাজ চলাচলে কমপক্ষে ১৩ ফিট পানির গভীরতা প্রয়োজন। অথচ বর্তমান সেখানে পানির গভীরতা রয়েছে মাত্র ৬ থেকে ৮ ফিট। তাই নাব্য-সঙ্কটের কারণে জাহাজগুলো রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় এসে নোঙর করেছে। এখন শতাধিক শ্রমিক ওইসব জাহাজ থেকে সার, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ‘ক্লিংকার’, পোলট্রি খাদ্যসহ বিভিন্ন মালামাল নামিয়ে বলগেট ও ট্রলারে বোঝাই করে তা গন্তব্যে নিচ্ছে। এতে ভোগান্তিসহ বেড়ে যাচ্ছে তাদের পরবিহন খরচ ও সময়।

জাহাজের মাস্টাররা জানান, দীর্ঘ সময় এখানে থাকতে খাওয়া দাওয়াসহ অনেক সমস্যা হচ্ছে। অনেকে নদীর পাড়ে পলিথিন টানিয়ে রাত্রী যাপনসহ রান্নার ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিবছরই নাব্য-সঙ্কটের এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ড্রেজিং করলে এ সমস্যায় তাদের পড়তে হত না।

rajbari-jahaj

আরিফ ট্রান্সপোর্টের প্রতিনিধি মনির উদ্দিন সরদার জানান, প্রতিদিন ৪/৫টি জাহাজের মালামাল দৌলতদিয়ায় লোড-আনলোড করা হয়। বাঘাবাড়ী-নগরবাড়ী যেতে মোল্লার চর, নাকালিয়া, কইটুলায় নাব্য-সঙ্কট দেখা দেয়ায় দৌলতদিয়ায় জাহাজ নোঙর করা হয়েছে। বিগত কয়েক বছর এভাবেই কাজ করছেন।

তবে বিআইডব্লিউটিএর (আরিচা, পাটুরিয়া, দৌলতদিয়া) সহকারী পরিচালক আব্দুর রহিম জানান, নদীতে যে পরিমাণ নাব্য থাকে সে অনুযায়ী ড্রাফট সীমা দেয়া হয়। কিন্তু এ রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলো অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে দৌলতদিয়ায় এসে কিছুটা খালাস করে নির্দিষ্ট ড্রাফট সীমার মধ্যে এনে গন্তব্যে রওনা হয়।

তিনি আরও বলেন, বছরের এ সময়টাতে তাদের ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে ৪টি মেশিন দিয়ে ড্রেজিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

রুবেলুর রহমান/এফএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :