জামিনে বের হয়ে ফের পাহাড় কর্তন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১১:৫৮ এএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

পাহাড় কাটার অপরাধে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদফতরের দায়ের করা মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে ফের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাহাড় কাটায় সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। গত দুই দিন ধরে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলেও স্থানীয় বনবিভাগের কোনো খবর নেই।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৮ সালে পাহাড় কাটার অভিযোগে সোলতান আহমদ, কবির আহমদ ও আবদুস সালামের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করা হয় (মামলা নং ১২/১৮)। ওই মামলায় সোলতান আহমদসহ ৬ জন কারাভোগ করে গত কয়েকদিন আগে জামিনে বেরিয়ে আসেন।

কিন্তু জামিনে বের হয়ে এসে মরিচ্যার দক্ষিণ পার্শ্বে গুরামিয়া গ্যারেজ সংলগ্ন বায়ানুল কোরআন মাদরাসার নিকটবর্তী বিশাল পাহাড় কাটার জন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করে আসছেন তারা। সেখানে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। এতে ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।

উখিয়া রেঞ্জের হলদিয়া বন বিট কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না উল্লেখ করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই পাহাড় কাটতে দেয়া হবে না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গুরামিয়া গ্যারেজের বায়ানুল কোরআন মাদরাসা সংলগ্ন বিশাল পাহাড়ে স্কেভেটর দিয়ে কাটা মাটি ডাম্পারে তোলা হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নাম সাদা কাগজে লিখে সামনে লাগানো ডাম্পারে সেসব মাটি পরিবহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোলতান আহমদ চক্রের সহযোগিতায় টেকনাফ সড়ক সম্প্রসারণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিসিসিএল অ্যান্ড মের্সাস জামিল ইকবাল লিমিটেডের দায়িত্বরত লোকজনকে প্রকাশ্যে বিশাল পাহাড় কাটতে সহযোগিতা করছে চক্রটি। আর মাটি নিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তাদের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করছে।

বিষয়টি জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দায়িত্বশীল কারো নম্বর ও নাম জানাতে পারেননি ডাম্পারচালক জসিম ও হেলপার আকবর। আর সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে পাহাড় কাটায় সহযোগিতার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি অভিযুক্ত সোলতান আহমদ।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়া কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, পাহাড় কেটে কাউকে উন্নয়ন প্রকল্পে মাটি ব্যবহার করতে বলা হয়নি। এমনটি হয়ে থাকলে এটি দুঃখজনক। খবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হবে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির জানান, বিষয়টি দেখতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বনবিভাগের দায়িত্বশীলদের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :