রাজবাড়ীতে ফসলি জমিতে বসতি বাড়ছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ১১:১৯ এএম, ০৯ মার্চ ২০১৯

দেশের অন্যান্য জেলার তুলানায় কৃষি প্রধান জেলা হিসেবে রাজবাড়ী অন্যতম। এ জেলার ৮০ ভাগ মানুষ কৃষি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে রাজবাড়ীর মানচিত্র। ফলে বাধ্য হয়ে এখন অনেকে ফসলি জমিতে গড়ে তুলছেন বসতি। এতে দিন দিন কমছে জেলার ফসলি জমি। ফসলি জমিতে বসতি নিয়ন্ত্রণে এখনই ভূমিকা না রাখলে ভবিষ্যতে কৃষি জমির অভাবে হুমকির মুখে পড়বে চাষাবাদ।

জেলার নিচু জমিতে চাষাবাদ হয় বিভিন্ন ধরনের ফসল। কিন্তু গত বছর রাজবাড়ীর প্রায় ১৯টি স্থানে ব্যাপক ভাঙন হয়েছে। যার ফলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার স্থায়ী রক্ষাকারী বাঁধ ফেজ-১ এর আড়াই কিলোমিটারের ৮টি স্থানের প্রায় ১ কিলোমিটার অংশের সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া সদরের মিজানপুর, বরাট, পাংশার হাবাসপুর, কালুকালীর রতনদিয়া, কালিকাপুর, গোয়ালন্দের ছোটভাকলা, দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। এতে হাজার হাজার বসতবাড়ী ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়।

RAJBARI-BOSOTI1

ভাঙন কবলিত এসব জনগণ মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়ে এখন বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমিতে গিয়ে নতুন করে তৈরি করছেন বসতবাড়ী। ফলে দিন দিন রাজবাড়ীতে কমছে ফসলি জমি।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, গত বছরের ভাঙনে রাজবাড়ীর প্রায় ১৩ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩ হাজার, পাংশায় ১ হাজার, কালুখালীতে সাড়ে ৩ হাজার, গোয়লন্দে ৩ হাজার ও বালিয়কান্দিতে ২ হাজার পরিবার।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকশ পরিবার সদর উপজেলার বরাট ইউপির ভবদিয়া ও দাদশী ইউপিসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু ফসলি জমিতে বসতবাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেছেন। যেখানে কিছুদিন আগেও ধান, পাট, গমসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হতো। এছাড়া নতুন করে বসতবাড়ি তৈরি হলেও তেমন কোনো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে ওঠেনি ওই এলাকাতে। নেই যোগাযোগের রাস্তাও।

RAJBARI-BOSOTI1

ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, কয়েকবার করে নদীভাঙনের কবলে পড়ে তারা আজ ফসলি জমিতে বসবাস করছেন। বাঁধ মেরামত করা হলে একটু রক্ষা পেতেন। বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে কিন্তু ধীর গতিতে হচ্ছে সে কাজ। নতুন করে ফসলি জমিতে বসবাস শুরু করলেও রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুৎসহ তেমন কোনো নাগরিক সুবিধা পচ্ছেন না তারা।

বরাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ মনিরুজ্জামান সালাম বলেন, তার ইউনিয়নে প্রতিবছর নদীভাঙনে বসতবাড়ী ও ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা এখন বাধ্য হয়ে ফসলি জসিতে বসবাস শুরু করছেন। দ্রুত নদীভাঙন রোধের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই ফসলি জমি রক্ষা পাবে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, ভাঙন স্থান রক্ষার জন্য একটি প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে আগামী বর্ষার আগেই ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলাই ভাঙন কবলিত এবং প্রতিবছর প্রতিটি উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়ন বন্যার কবলে পড়ে ও নদী ভাঙনের শিকার হয়। গত বছর ভাঙনে যারা গৃহহীন হয়েছে তাদের অনেকে বাঁধের পাশে খাস জমি, ব্যক্তিগত জমি বা কৃষি জমিতে বসবাস শুরু করেছেন।

রুবেলুর রহমান/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।