মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মন রক্ষায় ভাতিজার ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:৪০ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৯

'মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ভাতিজা' এ সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে এক প্রার্থীর পক্ষে প্রশাসনই নগ্নভাবে ভোট কেটে নেয়ার অভিযোগ তুলে পুনরায় নির্বাচন দাবি করেছেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা নির্বাচনে ভোট বর্জন করা তিন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী।

রোববার বেলা ৩টার দিকে কক্সবাজারের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত এ আবেদন দিয়েছেন তিন প্রার্থী মাহবুবুল আলম, আরাফাতুর রহমান জিহান চৌধুরী ও মোহাম্মদ রাসেল। অনুলিপি হিসেবে আবেদনটি প্রধানমন্ত্রী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

উখিয়ার তিন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর আবেদন পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। তবে, আবেদনে কি লিখা আছে এখনও পড়ে দেখেননি এবং বিকেল ৪টার দিকেই আবেদনটি দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন এ কর্মকর্তা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দায়ের করা অভিযোগে তারা দাবি করেছেন, তাদের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া জাহাঙ্গীর আলম মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের আপন ভাতিজা। ফলে, সচিবের মন রক্ষায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন শৃঙ্খলা বাহিনীর মদদে উপজেলার ১৪টি কেন্দ্রের ভোট কেটে নিয়ে জাহাঙ্গীরের টিউবওয়েল প্রতীকে সিল মেরে বাক্সে ফেলা হয়।

অভিযোগে তারা আরও উল্লেখ করেন, এসময় এসব কেন্দ্রে আমাদের (ভোটবর্জনকারী তিন প্রার্থী) কর্মী সমর্থক ও পাশের কেন্দ্রগুলোতে ভোট দিতে আসা লোকজনকে শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অহেতুক ধাওয়া দিয়ে ভীত সন্ত্রস্ত করে তোলেন। অনেককে মারধরও করা হয়। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সকলকে অবহিত করার পরও আইনগত কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সকাল সাড়ে দশটায় গণমাধ্যমকর্মীদের ডেকে তারা ভোট বর্জন করেন।

তাই, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে দায়িত্বরত স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উখিয়া থেকে প্রত্যাহার করে পুনরায় নির্বাচন দাবি করেন তারা।

ভোট বর্জনকারী মাহবুবুল আলম (উড়োজাহাজ), আরফাতুর রহমান জিহান চৌধুরী (তালা) এবং মোহাম্মদ রাসেল (মাইক) বলেন, প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম শুধু মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ভাতিজা তা নয়, তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোলতান মাহমুদের ভগ্নিপতি।

অভিযোগকারীদের একজন আরফাতুর রহমান জিহান চৌধুরী (তালা) বলেন, আমরা বেলা ২টার দিকেই আবেদনটি নিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০১৯ এর কক্সবাজারের রিটার্নিং কর্মকর্তার চেম্বারে আসি। কিন্তু আমাদের আবেদনটি গ্রহণ না করে ব্যস্ততার অজুহাতে বসিয়ে রাখা হয়। পরে ৩ টা ৫৯ মিনিটে আবেদনটি গ্রহণ করে সিল দিয়ে তারিখ ও সময়টা উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের কক্সবাজারের রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, দিনের বেলা কেউ কোথাও নির্বাচন বর্জন বা কোনো অনিয়ম হয়েছে এমন অভিযোগ প্রশাসনিকভাবে পায়নি। সবখানেই সুষ্ঠুভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।