মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা : ৪০ হাজার টাকায় মীমাংসার প্রস্তাব!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০২:৩২ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৯
অভিযুক্ত আনোয়ার

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় মীমাংসার নামে ধর্ষককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন মাতব্বররা। জরিমানার টাকা ওই শিশুর বাবা না নিলেও জোর করে তার বাড়িতে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বাকি ২০ হাজার টাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাকি টাকা মাতাব্বরদের পেটে নাকি তৃতীয়পক্ষ আত্মসাৎ করেছে- এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

গত ১২ এপ্রিলের ওই ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ও মীমাংসার প্রক্রিয়াটি এখন পৌরশহর এলেঙ্গাবাসীর নানা তর্ক-বিতর্ক আর মুখরোচক আলোচনা ও সমালোচনা বিশেষ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে মীমাংসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করেছেন ছাত্রীর বাবা। মামলায় অভিযুক্ত আনোয়ারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, শিশুর বাবা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার বাসিন্দা। তবে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি এলেঙ্গায় বসবাস করে সেলুন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার মেয়ে এলেঙ্গার স্থানীয় একটি মাদরাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত।

অপরদিকে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা মাহবুব আলম নেত্রকোনা জেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তারাও দীর্ঘদিন ধরে এলেঙ্গা পৌর এলাকার সেমকো সিএনজি পাম্পের পূর্বপাশে ভাড়াবাসায় বসবাসসহ হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। একসঙ্গে বসবাসের সুযোগে গত ১২ এপ্রিল সকালে ওই শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা চালায় আনোয়ার।

ছাত্রীর বাবা বলেন, আমি এলেঙ্গাতে বাসা ভাড়া নিয়ে একটি সেলুন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। বখাটে আনোয়ারের পরিবার আমাদের পার্শ্ববর্তী বাসায় ভাড়া থাকে। গত ১২ এপ্রিল সকালে আমার মেয়েকে আনোয়ার তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় আমার মেয়ে চিৎকার করলে আমার স্ত্রী ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। আমি থানায় মামলা করতে যাব শুনে ধর্ষকের বাবা ও বড় ভাই স্থানীয় মাতাব্বরদের বিষয়টি জানান।

পরে তারা আমাকে মীমাংসায় বসতে বাধ্য করে। শালিসে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আমাকে ২০ হাজার টাকা দিলে আমি নিতে না চাইলে আমার স্ত্রীর কাছে টাকাগুলো দিয়ে যায়। বাকি ২০ হাজার টাকা মাতাব্বররা নিয়ে যায়। আমাকে বারবার শালিসের কাগজে স্বাক্ষর দিতে বললেও আমি কোনো স্বাক্ষর দেইনি। অবশেষে আমি থানায় মামলা করি। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্ত আনোয়ারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মশাজান গ্রামের স্থানীয় মাতাব্বর আব্দুল জলিল মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ছেলে ও মেয়ে নাবালক হওয়ায় জালাল হাজী, নবাব আলী, দেলোয়ার হোসেন, মোহনসহ ১০-১২ জন মিলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করি। ছেলেপক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিতে পারবে না জানালে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে মেয়ের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। জরিমানার ৪০ হাজার টাকার পুরোটাই ছাত্রীর পরিবারকে দেয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ধর্ষক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমার বাবা ও বড় ভাই মাতব্বরদের নিয়ে মীমাংসা করে দিয়েছে। এ বিষয়ে আমি আর কিছুই জানি না।

অভিযুক্ত আনোয়ারের বাবা মাহবুব হোসেন বলেন, ছোট একটি বিষয় নিয়ে স্থানীয় মাতাব্বরা আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে মীমাংসা করে দেন।

এ প্রসঙ্গে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে মামলা দায়ের শেষে অভিযুক্ত আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরিফ উর রহমান টগর/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :