আ.লীগ নেতার হোটেলে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ করে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ পিএম, ০৬ মে ২০১৯

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ শেষে হত্যার অভিযোগে শিবচর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় হোটেল কর্মচারীসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিহত স্কুলছাত্রীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে রোববার রাতে শিবচরের ‘উৎসব একাত্তর’ নামে একটি আবাসিক হোটেল থেকে ইন্নি আক্তার নামে ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হোটেল কর্মচারী রোনাল্ড, খায়রুল এবং রুবেল খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গণধর্ষণে নিহত কিশোরী পৌর এলাকার শেখ ফজিলাতুন নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এ ঘটনায় মাদারীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার বলেন, রোববার স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ‘উৎসব একাত্তর’ হোটেল কক্ষ ভাড়া নেয় রুবেল খান। এ সময় বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হয় রুবেল। একপর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় কিশোরীকে ফেলে পালিয়ে যায় রুবেল। পরে পুলিশ হোটেল কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক ওষুধ এবং কনডম ও নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন করে কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হোটেল কর্মচারী রোনাল্ড এবং খাইরুল জানায়, এই হোটেলে দীর্ঘদিন থেকেই দেহ ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ চলত। হোটেলের মালিক শিবচর পৌর মেয়র আওলাদ খান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।

গ্রেফতার রুবেল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, কয়েক মাস আগে কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় রুবেলের। এই সম্পর্কের জের ধরেই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে কক্ষ ভাড়া নেয় রুবেল। পরে রুবেল কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। এ সময় কিশোরী রক্তাক্ত হয়ে অসুস্থ হলে কিশোরীকে ফেলে পালিয়ে যায় রুবেল।

নিহতের স্বজনদের দাবি, এরপর হোটেলের কর্মচারীরা কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

নিহত স্কুলছাত্রীর মা ডলি বেগম বলেন, আমার মেয়েকে হোটেলে খাওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে নিয়ে তিনজন গণধর্ষণ শেষে হত্যা করেছে। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। আমি এর বিচার চাই।

এএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :