৮০ বছরের বৃদ্ধা বললেন সন্তানরা আমার মৃত্যু চায়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০৮:২৭ পিএম, ০৭ মে ২০১৯

গর্ভে থাকার জন্য মায়ের প্রয়োজন পড়লো। খাবার তুলে খেতে, প্রথম কথা শিখতে, হাত ধরে হাঁটতে মায়ের প্রয়োজন ছিল সন্তানদের। যে মা সারাজীবন নিজের দিকে না তাকিয়ে কেবল সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে শত কষ্ট সহ্য করেছেন, তাদেরকে আগলে রেখে বৃদ্ধবয়সে উপনীত হলেন, ঠিক তখন নিজের সন্তানদের কাছে মায়ের প্রয়োজন ফুরালো।

আল্লাহ আমাকে বুঝি চোখে দেখেন না। এত মানুষের মরণ হয় আমার কেন মরণ হয় না। প্রতিনিয়ত সন্তানরা আমার মৃত্যু চায়। চোখের পানি মুছতে মুছতে এভাবেই কথাগুলো বলেছেন ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌর এলাকার পতিবিলা গ্রামের মৃত শিরু মজুনদারের স্ত্রী ৮০ বছরের বৃদ্ধা জাহেরা খাতুন।

বৃদ্ধা জাহেরা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া শেষ সম্বল ভিটেবাড়ির এক টুকরা জমি আমার আজ কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৮ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পরও ছেলে-মেয়েদের সংসারে নাতি-নাতনি নিয়ে হেসে খেলে দিন যাচ্ছিল। বড় ছেলে মান্নান ও মেজ ছেলে মজিদ অন্য স্থানে জমি কিনে বসবাস করলেও নাতি-নাতনি ও ছেলে, বউ খোঁজখবর নিতো নিয়মিত। আর ছোট ছেলে রহিম ও ছোট মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা সাজেদা খাতুন আমার ভিটাতেই থাকে। তবে এখন ছেলেরা বউ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখে আছে। আমার খবর নেয় না কেউ।

জাহেরা খাতুন বলেন, সমান ভাগে পাঁচ ছেলে-মেয়েকে জমি লিখে দেই। এরপর থেকেই আমাকে দূর করে দেয় তারা। আমার কষ্টের শেষ নেই। ছেলে-মেয়েরা জমি পাওয়ার পর থেকে আমার আর কোনো খোঁজখবর রাখে না। খেয়ে আছি নাকি না খেয়ে আছি তাও উঁকি দিয়ে দেখে না সন্তানরা। মাঝেমধ্যে বড় ছেলে ও মেজ ছেলে আসলেও মায়ের কোনো খোঁজখবর না নিয়ে উল্টো মাকে বলে আমাদের জায়গা খালি করে দিয়ে অন্য কোথাও চলে যাও।

এই বৃদ্ধা আরও বলেন, মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা। এজন্য পরের বাড়িতে কাজ করে। যা পায় তা দিয়ে আমার আর তার সংসার চলে। আমি বিধবাভাতার যে টাকা পাই তা দিয়ে পান-সুপারি তো দূরের কথা ওষুধ কিনতেই সব শেষ হয়ে যায়। আমি আমার জমি সন্তানদের কাছ থেকে যদি ফিরিয়ে নিতে পারতাম তাহলে হয়তো আমি যতদিন বেঁচে থাকতাম ততদিন জমির লোভে ছেলেরা আমার খোঁজখবর নিতো।

স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে সাজেদা খাতুন বলেন, মা তার জমি আমাদের পাঁছ ভাই-বোনকে সমান ভাগে ভাগ করে দেয়ার পর থেকে আমার ভাইরা আর মায়ের কোনো খোঁজখবর নেয় না। আমি পরের বাড়ি কাজ করে যা পাই তা দিয়েই মা-মেয়ের খেয়ে না খেয়ে দিন চলে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছোট ছেলে রহিম বলেন, দিনমজুরের কাজ করে আমারই নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তারপরও মায়ের খোঁজখবর নেয়ার চেষ্টা করি আমি।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।