কক্সবাজারে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে বিকিকিনি
দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। রোববার পার হচ্ছে ২৭ রোজা। ২৯ রমজানে মাস শেষ হলে বুধবার আর ৩০ রমজানে হলে বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে মুসলিম সম্প্রদায়। এ সময় নতুন বা পরিচ্ছন্ন জামা-ই যেন প্রধান ভরসা।
কেউ কেউ রোজার শুরুতে বাজার করে নিলেও অধিকাংশ পরিবার ২০ রমজানের পরই পরিজনের জন্য নতুন পোশাক কিনতে মার্কেটে যান। এ বছর ২৫ রজমানে ইংরেজি মাসের শেষ হওয়ায় বোনাস ও বেতন পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে চাকুরেদের। ফলে শেষ সময়ে এসে ঈদবাজারে ভিড় করছেন এসব পরিবারের সদস্যরা।
প্রকৃতিতে জ্যৈষ্ঠের দাবদাহ চলছে। বৃষ্টির তেমন তোড়জোড় নেই। কখনও বৃষ্টি হলেও তা অল্পক্ষণ পর আবার পূর্বেও অবস্থায় ফিরছে। ভ্যাঁপসা গরমের মাঝেও পছন্দসই মার্কেটে ঘুরে কেনাকাটা করেছেন দূর-দূরান্তের মানুষ। ২০ রমজানের পর মার্কেটে যাওয়ার আশায় থাকা পরিবারগুলো এখন বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন। পরিজনের মুখে হাসি ফোটাতে গরম উপেক্ষা করে বিকিকিনিতে মশগুল আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা। ফলে জেলা, উপজেলা ও পৌর শহরের বাণিজ্যিক এলাকার বিপণিবিতানগুলো সরগরম হয়েছে। চলছে সকাল-দুপুর-মধ্যরাত পর্যন্ত বিকিকিনি।

জেলা শহরের ফজল মার্কেট, কোরালরীফ প্লাজা, সমবায় সুপার মার্কেট, এ ছালাম মার্কেট, নিউ মার্কেট, সী-কুইন মার্কেট, আপন টাওয়ার, হাজেরা ও ফিরোজা শপিং কমপেক্স, পৌর সুপার মার্কেট, বাটা মার্কেট, ডাটা বাজার, মসজিদ মার্কেট, বাজারঘাটা জীলস্ শপ ও হকার মার্কেটসহ একাধিক বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেছে, বিপণিবিতানগুলোর বেশির ভাগ দোকানে নানা বয়সী নারী ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। তাল মিলিয়ে আসছে কিশোর ও তরুণরাও। ঈদে পোশাকে মধ্যবয়সী কিংবা নববিবাহিতা নারীরা বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের শাড়ি খুঁজলেও তরুণী ও কিশোরীদের প্রধান পছন্দ ডিসেন্ট ড্রেস। আবার অনেকে কিনছেন থান কাপড়ও। শৌখিন অনেকে ওয়ানপিস কিনে সেটার সঙ্গে প্লাজো প্যান্ট, ওড়না, জুতার ম্যাচিং করে ড্রেস মেলাচ্ছেন।
দোকানে দোকানে শোভা পাচ্ছে দেশি বিভিন্ন ডিজাইন আর দামের বালুচুরি, হ্যান্ডি ব্লক, টাঙ্গাইল, জুট কাতান, সুতি, হাফ সিল্ক ও জামদানি সিল্ক, মুসলিন অ্যামব্রয়ডারি, মুসলিন শিপন, এনডি, বলাকা, জামদানি, ধুপিয়ান, কাতান, জয়শ্রী, স্বর্ণ কাতান, মুসলিন ব্রাশো, ঝলক কাতান শাড়ি। আর ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে জামদানি, সুতি, টাঙ্গাইল, সিল্কের ওপর কাটোয়ার, অ্যামব্রয়ডারি ও এন্ডির মিশ্রণে হাতেবোনা সিল্ক শাড়ি। ক্রেতারা গরমের কারণে এবার সুতি শাড়িকে প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে জানান দোকানিরা।

দেশীয় কাপড়ের পাশাপাশি ভারতীয় হরেক রকমের ব্র্যান্ডের থ্রি-পিসও রয়েছে বাজারে। ব্যবসায়ীদের মতে, তরুণী ও ছোটদের জন্য খোঁজ করা হচ্ছে ভারতীয় নানা সিরিয়ালের চরিত্রের নামে বাজারে আসা পোশাক। এসব পণ্য নিয়ে সুবিধামতো টাকাও আদায় করে নিচ্ছেন সুযোগসন্ধানীরা।
ভিড় বেড়েছে প্রসাধনসামগ্রী পাইকার মার্কেট পৌরসুপার মার্কেটেও। বাজার সম্পর্কে অবগত নারীরা একবার হলেও এখানে ঢু মারছেন বলে জানিয়েছেন মার্কেটের আবছার স্টোরের মালিক আবছার কামাল।
সমবায় সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তা ও ময়ূরী বস্ত্রবিতানের স্বত্বাধিকারী সাইফুদ্দিন বলেন, অতি গরমের কারণে দিনের বেলা বিক্রি কম হয়েছে। কিন্তু শেষ সময়ে দিনরাত সমান তালে ক্রেতারা আসছেন।

একই অবস্থা জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক এলাকা ঈদগাঁও বাজারেও। নিম্নমধ্যবিত্তরা শেষ সময়ে বাজারে আসছেন বলে দাবি করেন সিংহভাগ ব্যবসায়ী। চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, উখিয়া, রামুসহ জেলার অন্য এলাকাতেও প্রায় একই অবস্থা বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।
কক্সবাজার ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম মুকুল বলেন, শুরু থেকে চুরি-ছিনতাই ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সমিতিভুক্ত ৪৫ মার্কেটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পর্যাপ্ত বলয়ের সাথে রয়েছে আমাদের নিজস্ব কর্মীও।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসাইন জানিয়েছেন, ঈদে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবধরনের প্রস্তুতি আগে থেকেই নেয়া হয়েছে। রয়েছে প্রতিটি মার্কেটের সামনে পর্যাপ্ত পুলিশ পাহারা। আগে থেকেই বলা হয়েছিল, কেউ কোথাও কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে পুলিশকে অবহিত করতে। অভিযোগ পাবার পরও ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার বাবুল চন্দ্র বণিক বলেন, শুধু মার্কেট নির্বিঘ্নকরণ নয় চলাচলেও প্রশান্তি দিতে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে কক্সবাজার পৌরসভা নিয়োজিত কমিউনিটি ট্রাফিক ও পুলিশের সদস্যরা।
সায়ীদ আলমগীর/বিএ/এমএস