স্বামীর নির্যাতনে মৃত্যুর মুখে রুখসানা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১১:৩৫ এএম, ১৭ জুলাই ২০১৯

স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন গৃহবধূ রুখসানা খাতুন। তিনি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের নাওরাপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক আরব আলীর মেয়ে। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বোরোচিত নির্যাতনের শিকার রুখসানা হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে রডের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বাদ যায়নি শরীরের স্পর্শকাতর স্থানও।

জানা যায়, তিন বছর আগে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বনগ্রামের শেখ রইসউদ্দিনের ছেলে মাহামুদুল্লাহ হাসানের (৩২) সঙ্গে রুখসানার (২৮) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য রুখসানার ওপর শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল স্বামী মাহামুদুল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যরা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুখসানা খাতুন বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার ওপর নির্যাতন চালাতো স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। আমি সন্তানের মা হতে চাইলে তারা আরও বেশি অমানুষিক নির্যাতন চালাতো।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে আমার হাত-পা শিকল দিয়ে বেঁধে তারা লোহার রড দিয়ে পেটাতো। সংসার ভেঙে যাবে বলে কিছু বলতাম না, মুখ বুঝে সব সহ্য করেছি।’

তিনি আরও বলেন, বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি এসে জানতে পারি মাহামুদুল্লাহ আগেও একটি বিয়ে করেছিল। তারপরও সবকিছু মেনে নিয়ে সংসার করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দিনদিন অত্যাচারের পরিমাণ বেড়েই চলছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার সন্ধ্যায় আমাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে বস্তায় ভরতে যায়। এ সময় প্রতিবেশিরা টের পেয়ে আমার জীবন রক্ষা করেন।’

রুখসানা বলেন, শরীরের সবখানে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আমাকে আধমরা করে ফেলে রাখে। পরে প্রতিবেশীরা আমার বাবাকে ফোন দেন। খবর পেয়ে বাবা ও এলাকার লোকজন সেই রাতেই এসে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে আমাকে মধুখালী হাসপাতালে ভর্তি করে।

রুখসানার পিতা আরব আলী বলেন, ‘আমি গরিব কৃষক। মাহামুদুল্লাহ বিডিআরে চাকরির মিথ্যা কথা বলে আমার মেয়েকে বিয়ে করে। বিয়ের কয়েক দিন পর জানতে পারি, সে আগেও একটি বিয়ে করেছিল। এছাড়া তার এখন চাকরি নেই, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাকরিচ্যুত হয়েছে। তারপরও আমরা মেনে নিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, ‘তারা আমার মেয়ের ওপর যেভাবে নির্যাতন চালিয়েছে আমি তার বিচার চাই।’

কামারখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, বিষয়টি খুবই অমানবিক এবং দুঃখজনক। মেয়েটির ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমরা অনেক কষ্টে তাকে শ্বশুর বাড়ি বালিয়াকান্দি থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। বালিয়াকান্দি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. কবির সরদার জানান, মেয়েটির ওপর বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে। অবস্থা এখনও আশংকাজনক, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজমল হুদা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মেয়েটিকে নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েছি। স্বামী মাহামুদুল্লাহকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

বি কে সিকদার সজল/এমএমজেড/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।