ফরিদপুরে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম শেখকে সংবর্ধনা
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার ওপেনিং ব্যাটসম্যান নাঈম শেখকে ফরিদপুরে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট ১নং সড়কের বাসিন্দা সৌদিপ্রবাসী আবদুল আজিজ ও গৃহীণি কেয়া বেগমের ৩ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে নাঈম শেখ দ্বিতীয়। বর্তমানে নাঈম স্থানীয় একটি কলেজে একাদশ প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত।
তরুণ ক্রিকেটার নাঈম শেখ ঢাকা থেকে সড়কপথে প্রাইভেটকার যোগে রোববার বিকেল ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ মোড়ে পৌঁছালে সেখানে অপেক্ষারত ফরিদপুরের তরুণ সমাজ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় তরুণ সমাজের পক্ষ থেকে আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে নাঈমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর কয়েক শত মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে নাঈম শেখকে সঙ্গে নিয়ে ফরিদপুরে তার বাসার উদ্দেশ্য রওনা হয়।
ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট ১নং সড়কে নাঈমের বাসার সামনে তার বাবাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাকে ফুলেল সংবর্ধনা প্রদান করেন।

সংবর্ধনার আয়োজক আব্দুস সাত্তার বলেন, তরুণ ক্রিকেটার নাঈম শেখ ফরিদপুরের গর্ব। বিশ্বে ফরিদপুরের নাম উজ্জ্বল করেছে নাঈম। তাই ফরিদপুরের তরুণ সমাজ তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে।
ক্রিকেটার নাঈম শেখ বলেন, ফরিদপুরবাসীর এ সংবর্ধনার কথা আমার চিরদিন মনে থাকবে। তিনি বলেন, আগামী মঙ্গলবার আমরা নেপালে খেলতে যাব। সেখানে আমাদের একটাই লক্ষ্য থাকবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার।
তিনি বলেন, কদিন আগে ইন্ডিয়ায় ভালো খেলতে পেরে নিজের অনেক ভালো লাগছে। সামনে আরও ভালো করার চেষ্টা থাকবে দল ও দেশের ক্রিকেটের জন্য ইনশাল্লাহ।

এদিকে ক্রিকেটার নাঈম শেখ তার নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছুটা সময় থেকে সন্ধ্যায় ঢাকায় তার ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে অভিষিক্ত তরুণ ক্রিকেটার নাঈম শেখকে নিয়ে নিজ জেলা ফরিদপুরসহ দেশজুড়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টুয়েন্টি ম্যাচে নজরকাড়া পারফরমেন্স করে দেশের মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন ২০ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার।
ভারতের বিরুদ্ধে নাগপুরে শেষ টি-টুয়েন্টি ম্যাচে দেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৮১ রান করলেও ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। তবে নাঈম শেখ যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন ততক্ষণ ম্যাচে জয়ের পাল্লা ভারী ছিল বাংলাদেশের দিকেই। ফলে স্টার অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কারটিও পেয়েছেন তিনি।

তিন ম্যাচে ৪৭ দশমিক ৬৬ গড়ে করেছেন ১৪৩ রান। নাঈমের নিজ জেলা ফরিদপুরের মানুষ তাদের প্রিয় ক্রিকেটারকে নিয়ে দারুণ গর্বিত। শুধু নাঈমই নয়, তার দারুণ পারফরমেন্সে শুভেচ্ছায় ভাসছেন তার বাবা-মাও।
নাঈমের বাবা আবদুল আজিজ শেখ জানান, ছোট বেলা থেকেই ক্রিকেট খেলা ছিল নাঈমের বেশ পছন্দ। মাঝে মধ্যে স্কুল পালিয়ে ক্রিকেট খেলেতো ফরিদপুরের বিভিন্ন মহল্লার মাঠে। এরজন্য তাকে বকুনীও খেতে হয়েছে অনেকবার। তবুও ক্রিকেট ছাড়েননি নাঈম। পাড়া-মহল্লায় ক্রিকেট খেলে পুরস্কার জিতেছে অনেক। ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার কারণে নাঈমকে ২০১৬ সালে ভর্তি করা হয় ফরিদপুর ক্রিকেট কোচিং একাডেমীতে। সেখান থেকেই নাঈমের পথচলা শুরু। এরই মাঝে ডাক পান জাতীয় দলে। গত বছর অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলে ভালো পারফরমেন্স করে।
তিনি আরও জানান, জাতীয় এ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফর করে দুটি ম্যাচে অংশ নিয়ে একটিতে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয় নাঈম। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে ৩টি সেঞ্চুরিসহ ৮০৭ রান করেন যা লীগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিপিএলে ভালো করেছে সে। এরপরই ডাক পান জাতীয় দলে। জাতীয় দলের হয়ে অভিষিক্ত ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে নজরকাড়া পারফরমেন্স করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন।

জাতীয় দলের হয়ে ভালো খেলায় খুশি নাঈমের বাবা-মা। নাঈমের মা কেয়া বেগম বলেন, তার ছেলের খেলা টিভিতে তিনি দেখেছেন। তার ছেলে বাংলাদেশের হয়ে আরো ভালো খেলবে এটিই তার প্রত্যাশা।
অভিষেকে আলো ছড়ানো নাঈম শেখ আইসিসির সর্বশেষ টু-টুয়েন্টি র্যাংকিংয়ের পুরস্কারটা পেলেন হাতে নাতেই। এক লাফে ৩৮তম অবস্থানে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের প্রতিভাবান তরুণ এ ক্রিকেটার। সমান ৪৯৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ডের তারকা জনি বেয়ারোস্টের সঙ্গে যৌথভাবে র্যাংকিংয়ে আছেন নাঈম শেখ। ভারতের বিরুদ্ধে টি-টুয়েন্টির তিন ম্যাচে তার রান হলো ২৬, ৩৬ ও ৮১।
বি কে সিকদার সজল/এমএএস/জেআইএম