যশোরে তালপাতায় লিখে বিদ্যা অর্জনের শুভ সূচনা তিন শতাধিক শিশুর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৮:১৯ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০২০

ক’য়ে কলা খ’য়ে খাই অতো বেশি খেতে নাই, গ’য়ে গরু ঘ’য়ে ঘাস কত ঘাস খেতে চাস, ঙ বলে কোলা ব্যাঙ, সারাদিন ঘ্যাঙ ঘ্যাঙ, ক খ গ ঘ ঙ...’ শিশুদের সমবেত কণ্ঠে এমন গানে গানে উৎসবমুখর পরিবেশে তালপাতায় মাতৃভাষায় বর্ণ লিখে শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি হলো যশোরের তিন শতাধিক কোমলমতি শিশুর।

উদীচী যশোর পরিচালিত অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ের আয়োজনে ‘হাতেখড়ি’ উৎসবে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত প্রবীণ শিক্ষকগণ এ শিশুদের হাত ধরে তালপাতার উপর লিখে তাদের বিদ্যা অর্জনের শুভ সূচনা করেন।

আবহমান বাংলার গৌরবময় সমৃদ্ধ পারিবারিক সামাজিক অনুষ্ঠান নাগরিক জীবনে সার্বজনীন করার লক্ষ্য নিয়ে যশোরের ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ মাঠে বৃহৎ কলেবরে শুক্রবার এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

হাতেখড়ি উপলক্ষে সকাল থেকেই ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ মাঠে বসেছিল শিশুমেলা। শিশুমেলায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার আলোকিত মানুষেরা। এ আলোকিত মানুষের হাত ধরেই আলোকিত জীবন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শিশুরা শিক্ষা জীবনের শুরুতে দেয়া হলো হাতেখড়ি।

জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ উৎসব। বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব অ্যাড. কাজী আব্দুস শহীদ লাল। অভিভাবকদের মাধ্যমে শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাদা মনের মানুষ হয়ে সমাজকে আলোকিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন ও সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক অধ্যাপক আসাদুজ্জামান।

Jashore-Hate-Khori

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উদীচী যশোরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মজনু। স্বাগত বক্তব্য দেন উদীচী যশোরের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ন্যাশনাল প্রি ক্যাডেট অ্যান্ড হাই স্কুল যশোরের অধ্যক্ষ কাজী জাহাঙ্গীর আলম লিপু, হাতেখড়ি উৎসব কমিটির আহ্বায়ক রজিবুল ইসলাম টিলন, অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুক্তিযোদ্ধা চামেলী মুখার্জ্জী প্রমুখ।

অতিথিদের নিয়ে তালপাতায় লিখে শিশুদের হাতেখড়ি দেন, প্রবীণ শিক্ষক তারাপদ দাস, আব্দুল হালিম, আমিরুল ইসলাম রন্টু, এলাহদাদ খান, যশোর কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা ও ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জেএম ইকবাল হোসেন।

এদিকে উদীচী যশোরের বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজনে অভিভূত হয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা ইয়াসমিন আক্তার লাবনী তার একমাত্র মেয়ে মিনহা রহমান সুপ্তকে নিয়ে এসেছিলেন শিশুদের এ উৎসব সমাবেশে।

তিনি জানান, গুণীজনদের হাত ধরে লেখাপাড়ার যাত্রা শুরু হওয়ায় মেয়ে খুব খুশি। মেয়ের খুশিতে আমিও খুশি। তিনি বলেন, এমন আয়োজন যত বেশি হবে ততই সমাজের জন্য সুখকর হবে। সমৃদ্ধ হবে সমাজ ব্যবস্থা।

চাকরিজীবী হুমায়ুন কবির ও গৃহিণী কাজী তানিয়া জানান, চার বছর বয়সী সন্তান তাসকিনকে নিয়ে এসেছি এ উৎসবে সামিল হতে। অভিন্ন ভাষায় এ দম্পতি বলেন, ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের এমন পরিবেশে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতা থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

এমনই অনুভূতি প্রকাশ করেন অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ের নতুন শিক্ষার্থী মাহিন আহমেদ, প্রণব রাহা তোজো, সামিয়া ইসলাম রূপন্তী, নবনীতা সেন, আরিশা আয়জা, আহনাফ মুত্তাকিন, আরাধ্যা রায়, আরিশা মির্জা, সোহানা খান অহনা, সাঁই সাহা, অঙ্কিতা দত্ত, অরুনিমা মজুমদার, এঞ্জেলা, আজওয়াদ আমিন ইসলাম, জাহিন হাসান রায়াদের অভিভাবকবৃন্দ।

উৎসব সস্পর্কে উদীচী যশোরের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব জানান, বিগত ২০১১ সাল থেকে উদীচী যশোরের উদ্যোগে নিজস্ব প্রাঙ্গণে এ হাতে খড়ি উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। সর্বসাধারণের মধ্যে বিকশিত করতে এ উৎসব আয়োজনের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

মিলন রহমান/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।