কাস্টমসের তিন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ৩০ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০৬:২৮ পিএম, ১৩ জুলাই ২০২০

প্রায় ৩০ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকিতে সহযোগিতার মাধ্যমে আমদানি পণ্য চালান খালাসের অভিযোগে বেনাপোল কাস্টম হাউসের তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় রাজস্ব ফাঁকির সহায়তায় দুই সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) কাস্টমস কর্মকর্তা বরখাস্ত ও লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম। বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

বরখাস্তকৃত কাস্টমস কর্মকর্তারা হলেন- বেনাপোল কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ ও ইবনে নোমান। বাতিলকৃত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হলো- বেনাপোলের মদিনা এন্টারপ্রাইজ ও মাহিবি এন্টারপ্রাইজ।

কাস্টম সূত্রে জানা যায়, ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আলহামদুলিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ ভারত থেকে ৬৬৫ প্যাকেজ মোটরপার্টসসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি করে। চালানটি আমদানি হওয়ার পর কাস্টম কর্তৃপক্ষের কাছে খবর আসে চালানে বড় ধরনের অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকি রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কৌশলে একজন রাজস্ব কর্মকর্তা ও দুজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে পণ্য চালানটি গোপনে খালাস করে নেয়।

একপর্যায়ে অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম টের পেয়ে চালানের চার ট্রাক পণ্য আটকের নির্দেশ দেন। কিন্তু তার নির্দেশ উপেক্ষা করে তিন রাজস্ব কর্মকর্তার সহযোগিতায় ট্রাকগুলো ছেড়ে দেয়া হয়। ফলে সরকারের প্রায় ৩০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়। পরে তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ওই তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। সেই সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকির মূলহোতা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মদিনা এন্টারপ্রাইজ ও তার সহযোগী মাহিবি এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়।

প্রসঙ্গত, বেনাপোল কাস্টম হাউসে রাজস্ব ফাঁকিসহ বিভিন্ন অনিয়ম বেড়ে যাওয়ায় তিন বছর ধরে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতি দেখা দেয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি হয় তিন হাজার ৩৯২ কোটি ২২ লাখ টাকা।

জামাল হোসেন/এএম/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।