বাবার ওপর প্রতিশোধ নিতে সন্তানকে অপহরণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০২:০৬ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে অপহৃত নিশাত বাবু (৩) নামে এক শিশুকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-১) সদস্যরা। এ সময় অপহরণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অপহৃত শিশুর বাবা ওই যুবককে কারখানা থেকে চুরির দায়ে চাকরিচ্যুত করেন। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে শিশুটিকে অপহরণ করেন বলে জানিয়েছেন গ্রেফতার যুবক।

উদ্ধারকৃত শিশু নিশাত বাবু (৩) দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানার যৌতগ্রামের বকুল মিয়ার ছেলে। আর গ্রেফতার মোস্তাফিজুর রহমান (১৮) শেরপুর সদর থানার ডুবারচর এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর আউটপাড়া এলাকার শওকতের বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

র‌্যাব-১ এর গাজীপুরের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গাজীপুর মহানগরীর আউটপাড়া এলাকার ভাড়াটিয়া বকুল মিয়ার একমাত্র সন্তান নিশাত বাবু (৩) বৃহস্পতিবার নিজ বাসা থেকে অপহৃত হয়। অপহরণের পর ভিকটিমের পরিবার সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে একইদিন দুপুরে বাসন থানায় একটি অপহরণ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করে। অপহরণের দিন ভিকটিমের বাবার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে এবং নিশাত বাবুকে সে অপহরণ করেছে বলে জানিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে তিন লাখ টাকা দাবি করে। অন্যথায় ছেলেকে হত্যা করে লাশ গুম করে দেবে বলে জানায়।

jagonews24

এ বিষয়ে র‌্যাবের কাছে অভিযোগ জানালে র‌্যাব ওই দিনই মধ্যরাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামি মোস্তাফিজুর গাজীপুর মহানগরীর ভাওয়াল বদলে আলম সরকারি কলেজের পাশে অবস্থিত এলএফ সিকিউরিটি নামক প্রতিষ্ঠানে পিয়ন পদে চাকরি করতেন। আগে তিনিও ভিকটিমের সঙ্গে একই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। এলএফ সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানে শিশুটির বাবা রিক্রুরিং অফিসার হিসেবে কর্মরত। ৪ দিন আগে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চুরির দায়ে ওই শিশুর বাবা আসামি মোস্তাফিজুরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেন। ওই ঘটনায় প্রতিশোধ নিতে একটি ধারালো চাকু কিনে তার মালিকের ছেলেকে অপহরণের টার্গেট করেন।

তিনি আরও জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করে তার বাবা-মায়ের কেলে তুলে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আমিনুল ইসলাম/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]