ঘুমের বড়ি খাইয়ে স্ত্রীর শরীর-মুখে গরম পানি ঢেলে পালিয়েছে স্বামী
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে ঘুমের বড়ি খাইয়ে অচেতন করে মুখে ও শরীরে গরম পানি ঢেলে শরীর ঝলসে দিয়ে পালিয়েছে পায়েল মিয়া নামে এক পাষণ্ড স্বামী।
ঘুমের মধ্যেই স্ত্রী পাপড়ী চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা সজাগ উঠে উঠলে পাষণ্ড স্বামী দৌড়ে পালিয়ে যায়। তখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্ত্রী পাপড়ী আক্তারকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যায়। সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে রাতেই বাসায় চলে আসেন পাপড়ী আক্তার।
রোববার (১১ অক্টোবর) ফতুল্লার রসুলপুর এলাকায় আমির হোসেনের ভাড়াটিয়া বাসায় এ ঘটনা ঘটলে সোমবার ফতুল্লা থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ তদন্তে ঘটনাস্থলে যায়নি।
আহত পাপড়ী আক্তার পিরোজপুর জেলার উদয়কাঠি এলাকার নাজিম উদ্দিন হাওলাদারের মেয়ে। আর তার স্বামী পায়েল মিয়া রংপুর জেলার গঙ্গাচরা থানার বুড়িরহাট মিরাজপাড়া গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে।
পাপড়ী আক্তার জানান, পায়েল মিয়ার সঙ্গে ১০ বছর আগে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আলিফ (৭) নামে এক পুত্র সন্তান জন্মের পর থেকে ৭ বছর হয় স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি ফতুল্লার রসুলপুর এলাকায় চলে আসে।
সন্তানকে বাবা মায়ের কাছে রেখে পাপড়ী গার্মেন্টে কাজ করেন। ৭ বছরের মধ্যে তার স্বামী তাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি।
তিনি জানান, গত শুক্রবার হঠাৎ ফতুল্লার রসুলপুর এলাকায় তাদের ভাড়াবাসায় আসেন পায়েল মিয়া। এরপর পায়েল তাদের বাড়ি নিয়ে যাবে বলে পাপড়ীকে সন্তান নিয়ে প্রস্তুত হতে বলেন। এতে পাপড়ি অস্বীকৃতি জানান। আর এতদিন কেন স্ত্রী সন্তানের খোঁজখবর নেয়নি জানতে চায় পাপড়ী আক্তার।
এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তর্ক হয়। এরপর কৌশলে দু’দিন স্ত্রীর সঙ্গে থাকেন পায়েল মিয়া। একপর্যায়ে স্ত্রীকে রাতে খাবারে সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে পরের দিন ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় গরম পানি মুখে ও শরীরে ঢেলে দিয়ে পালিয়ে যায় পায়েল। এ সময় পরিবারের সদস্যরা পাপড়ীর চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে আহত অবস্থায় ঢাকা হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পরে তাকে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় চলে যায় পাপড়ী। আর এ ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে পাপড়ী ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করেনি। পুলিশ কীভাবে আসামির বিরুদ্ধে কি ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে তা বুঝে উঠতে পারছেন না পাপড়ী।
অভিযোগ তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানার এসআই জাকির হোসেন বলেন, সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ করার বিষয়টি শুনেছি রাতে। কিন্তু দিনে কেউ বিষয়টি না জানানোর কারণে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক যেতে পারিনি। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
মো. শাহাদাত হোসেন/এমআরএম