অভিযানে হামলা : আড়াইহাজারে ৫ শতাধিক আসামি করে মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:১৮ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২০

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ অভিযানে হামলার ঘটনায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং পাঁচ শতাধিক গ্রামবাসীকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ঘটনাস্থল থেকে আটক ১০ জনের মধ্যে নয়জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একজন পরীক্ষার্থী হওয়ায় তাকে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

সোমবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সোনারগাঁ জোনাল বিপণন অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মিজবাহ-উর-রহমান বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় এ মামলা করেন।

মামলায় আসামিরা হলেন- উপজেলার ঝাউগরা এলাকার জয়নালের ছেলে কিরণ (২৭), জলিলের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৪৩), ছামাদের ছেলে শহীদ (৪০), বাউয়া ডাক্তারের ছেলে আলাউদ্দিন (৪০), নুর ইসলামের ছেলে মামুন (৩৫), ইদ্রিস আলীর ছেলে শাহজাহান (৩৫), আব্দুল হাইয়ের ছেলে শহীদ (৪০), জয়নালের ছেলে মানিক (৩২) ও মাছুম (২৬), আব্দুল মান্নানের ছেলে মাসুদ (৩০), এনামুল (২৬) ও এমদাদুল (২৩), অজ্ঞাত, পিতা জুয়েল (৩৩), অহিদ মেম্বারের ছেলে শিবলু (৩৪), মৃত আদম আলীর ছেলে আরমান (৪২), আবুল হাসেমের ছেলে জাকির (৪৮), হারুন রশিদের ছেলে দাউদ (৪২), অজ্ঞাত, পিতা আলমগীর (৩৩), ছলিম উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪০), আয়নাল হকের ছেলে আল আমিন (৪২), মৃত ছামাদের ছেলে অহিদ (৪৫), জলিলের ছেলে হেলু মিয়া (৩০), মিলনের স্ত্রী পাপিয়া (২৫), মৃত জংশেদ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪৮), মৃত জাবেদ আলীর ছেলে শহিদুল্লাহ (৫২), সোবহানের ছেলে নজরুল ইসলাম (১৯), সাইফুল ইসলামের ছেলে ফাহিম ইসলাম আকাশ (১৮), আফজাল হোসেনের ছেলে মাহফুজ (১৮), আব্দুর রহমানের ছেলে ইকবাল হোসেন (৩০), মৃত আউলাদ হোসেনের ছেলে সাইফুল মোল্লা (৩০), শাহজাহানের ছেলে আরিফ (১৯), মৃত আবু তালেবের ছেলে মো. সাকিব (২২) ও মো. ফারুকের ছেলে মো. জাকারিয়া (১৮)।

এর মধ্যে রোববার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে আটক সাইফুল ইসলাম (৪৮), শহিদুল্লাহ (৫২), নজরুল ইসলাম (১৯), ফাহিম ইসলাম আকাশ (১৮), ইকবাল হোসেন (৩০), সাইফুল মোল্লা (৩০), আরিফ (১৯), মো. সাকিব (২২), মো. জাকারিয়াকে (১৮) আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাহফুজকে (১৮) পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শওকত হোসেন বলেন, ‘অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া, সরকারি কাজে বাধা, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে তিতাস কর্মকর্তা মো. মিজবাহ-উর-রহমান বাদী হয়ে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ ও ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় রোববার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে আটক ১০ জনের মধ্যে নয়জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আরেকজন পরীক্ষার্থী হওয়ায় তাকে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।'

মামলায় তিতাস কর্মকর্তা মিজবাহ উর রহমান উল্লেখ করেন, ‘কিরণ, হেলাল উদ্দিন, শহীদ, আলাউদ্দিন, মামুন, শাহজাহান, শহীদ, মানিক, মাছুম, মাসুদ, এনামুল, এমদাদুল, জুয়েল, শিবলু, আরমান, জাকির, দাউদ, আলমগীর, নজরুল ইসলাম, আল আমিন, অহিদ, হেলু মিয়া, পাপিয়াসহ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা পরস্পর যোগসাজশে ঘটনাস্থলে অবৈধ গ্যাসলাইন সংযোগ দেন।

প্রসঙ্গত, রোববার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার ঝউগড়া উত্তরপাড়া এলাকায় তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার উজ্জ্বল হোসেনের নেতৃত্বে তিতাস কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ অভিযান শুরু করে। অভিযানের এক ঘণ্টা পর কয়েকশ এলাকাবাসী উচ্ছেদকারীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে পুলিশের আট সদস্য আহত হন। এছাড়া সরকারি গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ১৩ রাউন্ড টিয়ারশেল, ৭৬ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১৬ রাউন্ড শটগানের (সিসা কার্তুজ) ফাঁকাগুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় হামলাকারী ১০ জনকে আটক করে পুলিশ। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- কনস্টেবল আলোক, জাকির, আল মামুন, রানা, সাগর, এরশাদ, লিটন ও আব্দুল জলিল।

শাহাদাত হোসেন/এসআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।