৩০ বছরে একটি ইটও পড়ল না রাস্তাটিতে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ০১:৪১ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০

গ্রামের নাম দেওয়ালেরটেক। গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের অবহেলিত একটি গ্রাম। এ গ্রামের মানুষ এখনো স্বপ্ন দেখেন মৃত্যুর আগে হয়তো গ্রামে প্রবেশের একটা ভালো রাস্তা দেখে যেতে পারবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন কি স্বপ্নই থাকবে? নাকি বাস্তবে পরিণত হবে— এমন শঙ্কা নিয়েই দিনাতিপাত করছেন এখানকার বাসিন্দারা।

বর্ষা মৌসুম ছাড়া বছরের অন্যান্য সময় পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য একমাত্র একটি সরু রাস্তা রয়েছে। তবে বর্ষায় ওই রাস্তাটিও পানিতে তলিয়ে যায়। তখন দেওয়ালেরটেক গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র বাহন নৌকা। বছরের পর বছর ধরে এ গ্রামের মানুষগুলো এমন ভোগান্তি নিয়েই বসবাস করছেন।

গ্রামটিতে প্রায় সহস্রাধিক লোকের বসবাস। রয়েছে শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী। বর্ষা মৌসুমে গ্রাম থেকে বের হতে হলে একমাত্র চলাচলের বাহন থাকে নৌকা। সে সময় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পাঠগ্রহণ করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারেন না। কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেয়াও হয়ে যায় কষ্টসাধ্য ব্যাপার। অনেক বয়স্ক মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পড়ে গিয়ে ভেঙেছেন হাত-পা।

Road-(1).jpg

কথা হয় গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেন (৫০), তছর আলী (৫৫), ওমর ফারুক (৪২) ও রজব আলীর (৫৬) সঙ্গে। তারা জানান, এই রাস্তাটি দিয়ে বাঙ্গাল হাওলা, দেওয়ালেরটেক ও দুর্বাটি গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। এখানে আছে দেওয়ালেরটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দেওয়ালেরটেক জামে মসজিদ। রাস্তার অবস্থা বেহাল হওয়ায় স্কুলে যেতে কোমলমতি শিশুদের যেমন কষ্ট হয়, তেমনি মসজিদে যাতায়াতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয় মুসল্লিদের।

গ্রামবাসীরা জানান, দীর্ঘ ৩০ বছরেও রাস্তাটি ভালো করা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে ইট ফেলে রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

Road-(3).jpg

ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ মোমেন ও নারী কাউন্সিলর আমিরুন্নেসা বলেন, ‘একটি রাস্তার অভাবে দেওয়ালেরটেক গ্রামের মানুষগুলো খুবই অসুবিধার মধ্যে রয়েছেন।’

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দুবার্টি থেকে মুনশুরপুর বাইপাস অভিমুখী রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় দুই কিলোমিটার। গাজীপুর জেলা পরিষদ ও পৌরসভা মিলে ইতোমধ্যে রাস্তাটির প্রায় এক কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ফান্ড পাওয়ার পর বাকি কাজ সম্পন্ন হবে।’

আব্দুর রহমান আরমান/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।