ইমুর ঘরে নতুন অতিথি

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ০৬:৩২ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ইমু পাখির বাচ্চা হয়েছে। রোববার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে পার্ক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানায়।

জানা গেছে, গত রোববার (২০ ডিসেম্বর) সকালে ইমুর পাখির একটি বাচ্চা ফুটেছে। আর বাচ্চাটি ঘিরেই ইমুর ঘরে বইছে আনন্দের বন্যা। ইমুর ডিম ফুটে ছানার জন্ম হওয়ার ঘটনা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে দ্বিতীয়। ২০ ডিসেম্বর বাচ্চার জন্ম হলেও নিরাপত্তার কারণে বিবেচনায় আজ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আনিসুর রহমান বলেন, পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পাখি ‘ইমু’। বন্য পরিবেশে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও এদের বসবাস অস্ট্রেলিয়াতেও। পার্ক প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে একটি পুরুষ ও দুটি নারীসহ মোট তিনটি ইমু পার্কে আনা হয়েছিল। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পার্কে চারটি ইমু ছানার জন্ম হয়েছিল। নতুন ছানা নিয়ে বর্তমানে পার্কে ইমুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটটি।

তিনি জানান, সম্প্রতি একটি মাদি ইমু পাঁচটি ডিম দেয়ার পর পুরুষ ইমুটি ডিমে তা দেয়। তা থেকে গত ২০ ডিসেম্বর সকালে একটি বাচ্চা ফুটেছে। বাকি ডিমগুলো হতে আরও বাচ্চা পাওয়ার আশা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সমতল তৃণভূমি বা খোলামেলা বন জঙ্গলে এরা বাস করে, এরা যাযাবর শ্রেণির অর্ন্তভুক্ত। ইমু পাখি হলেও এরা উড়তে পারে না, তবে ঘণ্টায় ৪০ মাইল বেগে দৌঁড়াতে পারে। এরা দক্ষ সাতারুও বটে। ইমু খুব শান্তশিষ্ট ও উৎসুক পাখি।

ইমু সাধারণত ছয় ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে এবং সর্বোচ্চ ওজন হয় ৬০-৬৫ কেজি। ডিম দেয়ার সময় হলে এরা বাসা বাঁধে। মা ইমু ডিম দেয়ার পর পুরুষ ইমু ডিমে তা দেয়। এই সময় তারা ডিম ছেড়ে অন্য কোথাও যায় না, এমনকি খাওয়া-দাওয়াও করে না। এদের প্রধান খাবার গাছপালা, ফলমূল ও পোকা মাকড়।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান বলেন, সাফারি পার্কে ইমুর বাচ্চা আশার সঞ্চার সৃষ্টি করেছে। আশা করছি বাকি ডিমগুলো থেকেও বাচ্চা ফুটবে।

শিহাব খান/এএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]