গমখেতের আইল নিয়ে সংঘর্ষ, দায়ের কোপে নারীর ২ আঙুল কর্তন
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দায়ের কোপে রাশিদা বেগম (৪০) নামের এক নারীর দুই আঙুল কর্তনের ঘটনা ঘটেছে। আহত ওই নারীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাশিদা বেগম সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের গয়ঘর খলিফাকান্দি গ্রামের সিরাজ খলিফার স্ত্রী।
সোমবার (৪ জানুয়ারি) বেলা দেড়টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত ছয়জন আহত হন। আহতরা হলেন- গয়ঘর খলিফাকান্দি গ্রামের আহাম্মদ খলিফার ছেলে শিরাজ খলিফা (৫৫), সামছু খলিফার ছেলে বাবুল খলিফা (৪০), আনোয়ার খলিফা (৩৫), মৃত আইয়ূব আলী খলিফার ছেলে আজিদ খলিফা (৫০), হাকিম খলিফার ছেলে রবিন খলিফা (২২) ও মোসলেম ঘরামীর ছেলে নোয়াবালি ঘরামী (৪৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একই বংশের রশিদ খলিফার সঙ্গে শিরাজ খলিফার দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তারই জেরে সোমবার বেলা দেড়টার দিকে রশিদ খলিফার ভাই আজিদ খলিফার গমখেত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন শিরাজ খলিফা। তখন আজিদের সঙ্গে শিরাজের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে রশিদ খলিফার পক্ষের দুইজন ও শিরাজ খলিফার পক্ষের পাঁচজন আহত হন। এ সময় প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে রাশিদা বেগমের ডান হাতের দুই আঙুল কেটে পড়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শিরাজ খলিফার চাচাতো ভাই হাকিম খলিফা বলেন, ‘আজিদ খলিফার গমখেতের সিমানা (আইল) দিয়ে যাচ্ছিলেন শিরাজ খলিফা। তখন রশিদের ভাই আজিদ বকা দিয়ে বলে, শিরাজ আমার গমখেতের সীমানা দিয়ে যাস কেন? এ ঘটনা নিয়ে দু’গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আমাদের পাঁচজন আহত হয়েছেন। দায়ের কোপে রাশিদা বেগমের ডান হাতের দুই আঙুল কেটে পড়ে গেছে।’
এদিকে, রশিদ খলিফার স্ত্রী ফাহিমা বেগমের দাবি, তাদের লোকজনদের মারধর করেছেন শিরাজ খলিফার লোকজন। এতে তার দেবর আজিদসহ দুইজন আহত হয়েছেন।
চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি, মামলাও হয়নি। কেউ মামলা করতে আসলে মামলা নেয়া হবে।সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।’
মো. ছগির হোসেন/এসএমএম/এসআর/এমএস