রাজবাড়ীতে আ.লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ
আসন্ন রাজবাড়ী সদর পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের দুই জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কাদের মিয়া সোহানকে (৩৫) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পৌর শহরের ২ নং বেড়াডাঙ্গার শিক্ষা অফিস এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মহম্মদ আলী চৌধুরীর সমর্থক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবব্দুল কাদের মিয়া সোহান। তিনি ১ নং বেড়াডাঙ্গার মৃত আবুল কাসেমের ছেলে। আহত অন্যজন হলেন, বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী আলমগীর হোসেন তিতুর বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ (৫৫)। যিনি ২ নং বেড়াডাঙ্গার মৃত আব্দুল গনি শেখের ছেলে। তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন।
বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী আলমগীর হোসেন তিতু জানান, সন্ধ্যার পর মহম্মদ আলী চৌধুরীর সমর্থকরা অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা করে এবং কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলি ছোড়ে। সেসময় তারা বাড়িতে থাকা নারী ও শিশুদের ওপর হামলা চালান ও আব্দুল্লাহ নামের একটি ছেলেকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন তার বড় ভাইয়ের মাথায় গুলি করেন। তিনি এখন হাসপাতালে ভর্তি। সেসময় তারা বাড়ির সামনে থাকা নির্বাচনী অফিস, অফিসের চেয়ার ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মহম্মদ আলী চৌধুরীর ভাগ্নে জেলা পরিষদ সদস্য রাশেদুল হক অমি জানান, বিকেলে ১ নং বেড়াডঙ্গায় নৌকার নির্বাচনী অফিসে থাকা মিঠুকে অবরুদ্ধ করেন তিতুর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসি। সেসময় অস্ত্র দেখিয়ে মিঠুকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করেন তারা। তখন তাদের কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যান। সন্ধ্যার পর মিছিল চলাকালীন শিক্ষা অফিসের সামনে তিতুর সমর্থকরা তাদের মিছিলে হামলা করেন এবং তাদের কর্মী সোহান গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাইরান মাহমুদ জানান, সোহানের জ্ঞান খুব একটা নাই। তার বেশ কয়েকটা দাঁত ও নাক ভেঙ্গে গেছে। ভেতরে রক্তক্ষরণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া বয়স্ক এক ব্যক্তির মাথায় আঘাত লেগেছে। তার মাথায় সেলাই দিয়ে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। তিনি এখন ভাল আছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দিন জানান, পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ তাদের নিয়স্ত্রণে। এ ঘটনায় একজনকে ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন।
রুবেলুর রহমান/ইএ/জেআইএম