নাম বদলের সঙ্গে বদলেছে চিত্রও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০১:২১ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০২১

মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের নাম বদলে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে এর নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ। সংক্ষেপে বিএসএমএমসি।

১৯৯২ সালে একটি তিনতলা ভবন, ছাত্রাবাস ভবন ও এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষের ৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ। তবে নাম বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে কলেজের চিত্র।

বিগত ২০১৭ সালে কলেজটি শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে ১৬ দশমিক ৭৫ একর এলাকার নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। যেখানে রয়েছে একটি সুবিশাল অডিটোরিয়াম, ছয়টি লেকচার গ্যালারি ও ছয়তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, একটি ডিসেকশন হল, লাইব্রেরি, কলেজ ক্যান্টিন এবং প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা টিউটোরিয়াল রুম।

রয়েছে পুরুষ এবং মহিলা ডরমিটরি, ইন্টার্ন হোস্টেল, অধ্যক্ষ ও পরিচালকদের আলাদা বাসভবন, চিকিৎসক ও স্টাফদের কোয়ার্টার এবং মসজিদ।

এছাড়া রয়েছে ছাত্রদের জন্য একটি ও ছাত্রীদের জন্য দুটি হোস্টেল। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা এবং সারভেইলেন্স টিম। রয়েছে সন্ধানী, মেডিসিন ও প্রতীতি ক্লাব। এছাড়াও রয়েছে ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক সোসাইটি, ফটোগ্রাফি অ্যান্ড ডিবেটিং ক্লাব এবং রোটার‍্যাক্ট ক্লাব।

২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে এখানে ভর্তির আসন সংখ্যা ছিল ১৩৩টি। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে এটি বৃদ্ধি পেয়ে আসন সংখ্যা ১৬০ করা হয়।

এছাড়া এখানে এনাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, ফরেনসিক মেডিসিন, কমিউনিটি মেডিসিন, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফার্মাকোলজি, মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও অবশ, শিশু, নিউরোলজি, নিওনেটোলজি, চর্ম ও যৌনরোগ, মানসিক রোগ, ফিজিক্যাল মেডিসিন, রক্ত পরিসঞ্চালন, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি, রেডিওথেরাপি, অর্থো সার্জারি, কার্ডিওলজি, রেডিওলজি, ইউরোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, নেফ্রোলজি, চক্ষু, নাক কান ও গলা, শিশু সার্জারি, এ্যানেসথেসিওলজি, দন্ত ও হেপাটোলজি এ ৩২টি বিভাগে ১২২ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

১৯৯২ সালের ২২ মার্চ কলেজটির প্রথম অধ্যক্ষ হন মরহুম অধ্যাপক ডা. মো. এনায়েত হোসেন।

সর্বশেষ গত বছরের ৩০ জুলাই সপ্তম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনিনি কানাডার রায়ারসন ইউনিভার্সিটি থেকে হেলথ এডমিনিস্ট্রেশন, হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ফর টেকনিক্যাল প্রফেশনাল বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন। বাংলাদেশে এ বিষয়ে তিনিই একমাত্র গ্রাজুয়েট।

অধ্যক্ষ ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর নীতি ছিল চিকিৎসা খাতকে অলাভজনক হিসেবে গড়ে তোলা। বিশ্বের উন্নত দেশসমূহে যেমনটি রয়েছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর সেই নীতিকে ভিত্তি রেখে এ কলেজের মানোন্নয়নে কাজ করছি। আগামী দুই বছরের মধ্যে বিএসএমএমসি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালকে টপকে দেশসেরা মেডিকেল কলেজ হবে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমএমইউ) এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহায়তায় শিশু বিভাগে আন্তর্জাতিক মানের একটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। যেখানে বিএসএমইউ এর মতোই অবকাঠামো থাকবে।

এছাড়া ফিনল্যান্ড ও কানাডার দু’জন চিকিৎসকের সহায়তায় একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এজন্য একটি রিসার্চ সেল গঠন করা হয়েছে যেখানে আইসিডিডিআরবি থেকে দু’জন কনসালটেন্ট নিয়োগ দেয়া হবে।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও জানান, হৃদরোগীদের জন্য ক্যাথল্যাব চালু করা হচ্ছে, যেখানে এনজিওগ্রাম ও হার্টে রিং পড়ানোর সুবিধা থাকবে। হাসপাতালের অচল হয়ে পড়ে থাকা যন্ত্রপাতি সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, এ মেডিকেল কলেজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে সাধারণ মানুষের সুচিকিৎসার বিষয়। কলেজের উন্নতির সঙ্গে ৭৫০ শয্যার বিএসএমএমসি হাসপাতালের সুচিকিৎসার বিষয়টিও জড়িত। আগের চেয়ে কলেজের অবকাঠামো ও একাডেমিক মানোন্নয়ন হয়েছে ব্যাপক।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজের সার্বিক চিত্র বদলে গেছে। পুরো ক্যাম্পাসকে পরিকল্পিতভাবে গুছিয়ে আনা হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রমেও ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।

এসএমএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]