সংসারের হাল ধরতে ভ্যান চালাচ্ছে ৯ বছরের শহিদ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০২:৪৬ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২১

যে বয়সে তার পড়ালেখা আর খেলাধুলা করার কথা সেই বয়সে তাকে ধরতে হয়েছে ভ্যানের শক্ত হাতল। শহিদ বিশ্বাসের বয়স ৯ বছর। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সে। বাবা-মা, ভাই-বোন নিয়ে তার পাঁচ সদস্যের পরিবার। অভাবী সংসারের হাল ধরতে বাবার সঙ্গে পালা করে চালাতে হয় ভ্যান।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের রায়পুরের বাসিন্দা শহিদ। তার বাবার নাম আবুল হোসেন। বড় ভাই হৃদয় বিশ্বাস (১২) উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের অমৃতনগর জান্নাতুল উলুম হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্র। বোনের বয়স ৭ মাস।

বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র শহিদ বিশ্বাস জানায়, তার বাবা বাবুর্চির কাজ করেন। কিন্তু এখন এ পেশায় সবদিন কাজ থাকে না। তাই তিনি কিস্তি তুলে ব্যাটারি চালিত ভ্যান কিনেছেন। একদিকে কিস্তির চাপ আরেকদিকে সংসারে আয় রোজগার নেই, সংসারও চলে না। তাই তার বাবা একবেলা আর সে একবেলা ভ্যান চালায়।

শনিবার (১০ এপ্রিল) চৈত্রের ভরদুপুরে চৌরাস্তা লোকাল বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী নামাতে দেখা গেল শহিদকে। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ হওয়ায় শহিদ প্রতিদিন একবেলা ভ্যান চালায়। তার বাবা যেদিন রান্নার কাজে যান সেদিন সারাদিন তাকেই ভ্যান চালাতে হয়।

কষ্ট হলেও এই বয়সে সংসার চালাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত ভ্যান চালাতে হচ্ছে ছোট্ট শহিদকে।

সে জানায়, মহামারী করোনার কারণে ভাড়া তেমন হয় না। যা আয় হয় তা দিয়ে কোনোমতে চলে তাদের সংসার।

শহিদ বিশ্বাসের বাবা আবুল হোসেন বলেন, সরকারি ওয়াবদার জায়গায় কোনোমতে একটি ছাপড়া উঠিয়ে স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করছি। আগে রান্নার কাজ করে কোনোমতো সংসার চালাতাম। কিন্তু করোনার কারণে অনুষ্ঠানও বন্ধ। তাই রান্নার কাজও নেই। বড় ছেলে হাফেজিয়া মাদরাসায় পড়ে। ফলে সংসারে সে কোনো সহযোগিতা করতে পারে না। এজন্য ছোট ছেলে ভ্যান চালিয়ে আমার সাথে সংসারে সহযোগিতা করে।

তিনি বলেন, শুনেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসহায়দের জমি ও ঘর দিচ্ছেন। কেউ যদি একখানা ঘর দিয়ে সহযোগিতা করতো আমাদের মাথা গোজার ঠাঁই হত।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র সেলিম রেজা লিপন বলেন, শহিদ বিশ্বাসের পরিবারের কথা শুনেছি। শহিদকে পড়ালেখা করাতে যা সহযোগিতা করার আমি করব। তার পরিবারের যদি কোনো ঘর বা জায়গা না থাকে তাহলে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে ঘরের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন তিনি।

এফএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]