শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আবারও খসে পড়ল পলেস্তারা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ১২:৩২ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২১

আবারও খসে পড়েছে শরীয়তপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের নীচতলার রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের কক্ষের ছাদের পলেস্তারা। গত শনিবারের এ ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের মধ্যে। পলেস্তারা খসে পড়ার পরও ঝুঁকি নিয়েই রোগীদের ওই কক্ষটি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এর আগে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুনীর আহমদ খানের কক্ষের ছাদের পলেস্তার খসে পড়েছিল। এখনও ওই কক্ষটির সংস্কার কাজ শেষ না করায় তা ব্যবহার করতে পারছেন না তত্ত্বাবধায়ক।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আক্তার হোসেন বলেন, ১০ এপ্রিল (শনিবার) সকালে কক্ষের তালা খুলে দেখি ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ে আছে। এক্সরে মেশিনের ওপর পলেস্তারার অংশ পড়ে আছে। বিকল্প কক্ষ না থাকায় এখনও ওই কক্ষটিই রোগীদের ব্যবহার করতে হচ্ছে।

সোমবার (১২ এপ্রিল) হাসপাতালের ওই বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগটি নিচতলার দুটি কক্ষে অবস্থিত। একটি কক্ষের ছাদের অধিকাংশ অংশের পলেস্তারা খসে পড়েছে। আর কিছু অংশ ঝুলে আছে। ওই কক্ষের মধ্যেই রোগীদের সেবা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুনীর আহমদ খান বলেন, ১৯৮৫ সালে হাসাতালের একটি অংশ একতলা ও একটি অংশ দোতলা করা হয়। এর পর ২০০৮ সালে অতিরিক্ত ১৬টি পিলার স্থাপন করে হাসপাতালটি তৃতীয় তলা পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। বর্তমানে হাসপাতাল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরেছে। গত পাঁচ বছরে পাঁচ দফা বিভিন্ন ফ্লোরের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে।

২০১৮ সালে নিচতলার করিডোরে ছাদের পলেস্তারা খসে তিনজন আহত হন। শনিবার আবার রেডিওলজি বিভাগগের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। গত বছর আমার কক্ষের পলেস্তারাও খসে পড়েছিল। তখন অল্পের জন্য দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি।

গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা ভবনটি পরীক্ষা করেছেন। এখন ভবনের নিচতলা সংস্কার না করে ব্যবহার করা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৯৮৫ সালে জেলা শহরে ৩০ শয্যার হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৯০ সালে তা ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। এরপর ২০০৩ সালে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় রূপান্তর করা হয়।

১৯৮৫ সালে ভবনের এক অংশ একতলা ও আরেক অংশ দোতলা করা হয়। এরপর ১০০ শয্যা করার পর ২০০৮ সালে পুরো ভবনটিকে তৃতীয়তলায় বর্ধিত করা হয়। ভবনের ভিত দুর্বল থাকায় তখন ১৬টি অতিরিক্ত পিলার (খুটি) স্থাপন করে ভবনের বর্ধিত অংশের কাজ করা হয়।

সদর হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগের ফার্মাসিস্ট নাসির উদ্দিন বলেন, হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন স্থানের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। অনেক স্থানে ছাদে ফাটল রয়েছে। অনেক কক্ষ দিয়ে পানি পরে। এমন অবস্থায় আমরা আতঙ্ক নিয়ে অফিস করছি। আমার ফার্মেসি বিভাগের কক্ষের ছাদ ও ভিমে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, তত্ত্বাবধায়ক, আরএমওর কক্ষ, এক্সেরে রুম, ল্যাবরেটরি ছাড়াও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ করার কক্ষ রয়েছে। ছয়টি কক্ষ এই মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ। শনিবার পুনরায় ছাদের অংশ খসে পড়ায় আমরা আতঙ্কে আছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ভবনে কাজ করা সম্ভব নয়।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. এসএম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ভবনটি পুরনো। তাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার করা হবে। সেজন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। হাসপাতাল প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাতে নিরাপদে সকলে কাজ করতে পারেন।

ছগির হোসেন/এফএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]