শিমুলিয়া ঘাটে সিএনজি চালকদের ব্যবসা তুঙ্গে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:১৮ পিএম, ১৭ মে ২০২১

গণপরিবহন সংকটে দক্ষিণবঙ্গ থেকে ফেরিতে শিমুলিয়া ঘাটে আসা ঢাকামুখী যাত্রীদের বেশিরভাগই গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে সিএনজিতে করে। এ সুযোগে শিমুলিয়া থেকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার সদরের প্রতিটি রুটেই তিন চাকার এই যানে দুই-তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৭ মে) দিনভর এমন চিত্রই দেখা যায় শিমুলিয়া ঘাটে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শিমুলিয়া এক, দুই ও তিন নম্বর ফেরিঘাটের প্রতিটির সামনে সারি সারি সিএনজি নিয়ে অপেক্ষা করছেন চালকরা। বাংলাবাজার থেকে ছেড়ে এসে শিমুলিয়া ঘাটে ফেরি নোঙরের পর যাত্রীরা বিভিন্ন ছোট যানবাহন করেই ঢাকার গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। ছোটযানের মধ্যে ঘাটজুড়ে সিএনজিরই আধিক্য। মানুষের চাপ থাকায় ঢাকামুখী যাত্রীরা ঘাটের সীমিত সংখ্যক এসব যানবাহনে উঠে পড়ছেন। এ সুযোগে প্রতিটি সিএনজিতেই পাঁচজন, কোনোটিতে ছয়জন যাত্রীও নিতে দেখা যায়। এসব যানবাহনে স্বাস্থ্যবিধি একবারেই উপেক্ষা করা হচ্ছে। আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

jagonews24

যাত্রী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিমুলিয়া ঘাট থেকে জনপ্রতি ঢাকার পোস্তগোলা ১৫০ টাকা, নয়াবাজার ১৫০ টাকা, সায়েদাবাদ ১৫০-১৬০ টাকা, মোহাম্মদপুর ৩০০ টাকা, মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর ১০০ টাকা ও নারায়ণগঞ্জ ১৫০ টাকা ভাড়ায় নিয়মিত যাতায়াত করা হয়। তবে বর্তমানে প্রতিটি রুটেই দুই-তিনগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বর্তমানে শিমুুলিয়া ঘাট থেকে পোস্তগোলা ও নয়াবাজার ৩০০ টাকা, সায়েদাবাদ ৪০০ টাকা, মোহাম্মদপুর ৫-৬শ টাকা, মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর ২০০ টাকা ও নারায়ণগঞ্জ ৩০০-৪৫০ টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের।

jagonews24

রাকিব হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘ঈদ আনন্দ শেষে তো কর্মস্থলে ফিরতেই হবে। কাজ না করলে জীবন-জীবিকা কীভাবে চলবে? যাওয়ার সময় দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যেতে হলো। এখন আসছি। এখনো বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে।’

আমির হোসেন নামের আরেক যাত্রী বললেন, ‘১০০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে। তারপরও সবাইতো জড়োসড়ো হয়েই যাচ্ছে। করোনা তো যা হওয়ার হচ্ছেই। মানুষকে শুধু শুধু ভোগান্তিতে ফেলার কোনো মানে হয় না। এর সুযোগ নিচ্ছে গাড়ি চালকরা।’

‘সিএনজিচালকদের ব্যবসা তো ভালোই হচ্ছে। আর আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে, ব্যয়ও হচ্ছে বেশি ৷ এ বিষয় কোনো কর্তৃপক্ষের তদারকি দেখলাম না’, বললেন ইলিয়াস হোসেন নামের আরেক যাত্রী।

jagonews24

গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা যাবেন হোসনে আরা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার গণপরিবহন খুইলা দিলেই তো পারে। ফেরিতে আসলাম মানুষের চাপ, এখন গাড়িতেও মানুষের চাপ। যাব পোস্তগোলা। ১৫০ টাকার ভাড়া নিতাছে ৩শ টাকা।’

তবে যাত্রীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিএনজিচালকরা। নয়াবাজার রুটের সিএনজিচালক আজিজুল বলেন, ‘যাওয়ার সময়তো ভালোই যাত্রী পাই। আসতে হয় খালি। তাই বেশি ভাড়া না নিলে পোষায় না আমাদের।’

আরেক চালক মো. কালাম বলেন, ‘রাস্তায় তিন থেকে চার জায়গায় টাকা দেয়া লাগে। কী করুম? বেশি না নিয়া উপায় নাই।’ কাকে টাকা দিতে হয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এগুলো বলা যাবে না।’

jagonews24

এ বিষয় মাওয়া ট্রাফিক পুলিশ ও লৌহজং উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সোমবার সকাল থেকে বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া ঘাটে আসা প্রতিটি ফেরিতেই ছিল ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ। আজ এ নৌরুটে ১৮টি ফেরি চলাচল সচল রয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ।

আরাফাত রায়হান সাকিব/এসআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।