এবার ঈদে ব্যস্ততা নেই রাজবাড়ীর কামারপট্টিতে
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই কামারশালায় ব্যস্ততা দেখা দেয়। ভোর থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত চললে হাতুড়ি আর লোহার টুং টাং শব্দ। পশু জবাইয়ের জন্য চাপাতি, ছুরি, ছোরা, দাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চাহিদা বেড়ে যায়। এজন্য ঈদের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই কামারদের দোকানে ভিড় করেন মৌলভি ও পশুর মালিকরা।

কিন্তু করোনা মহামারিতে ঈদের আগে এবার ব্যস্ততা দেখা যায়নি রাজবাড়ীর কামারপট্টিতে। কাজ না থাকায় অলস সময় পার করছেন তারা। চাপাতি, ছুরি তৈরির পরিবর্তে কাজ করছেন দা, বঁটি ও কাঁচি তৈরির কাজ। ফলে মৌসুমে ব্যবসা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন কামাররা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলা শহরসহ জেলায় প্রায় ৪০টির মতো কামারের দোকান রয়েছে। ঈদ মৌসুমে তাদের ১০-২০ হাজার টাকা আয় হয়। কিন্তু এবারের অবস্থা ভিন্ন। কাজ না থাকায় কামাররা অলস সময় পার করছেন।
কাঁচি ধার করতে আসা আলাউদ্দিন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘কোরবানির ঈদের আগে কাঁচি ধার দেয়ার জন্য কামারদের কাছে আসলে তারা এগুলো ছুঁয়ে দেখারও সময় পেতেন না। কাঁচি রেখে গেলে অনেকদিন পর ধার দিয়ে দিতেন। কিন্তু এবার বসে থেকে কাজ করে নিচ্ছেন। কোন ভিড় নেই।’

মাসুদ কর্মকার নামের একজন বলেন, অনেক দিন ধরে এ পেশায় রয়েছি। তবে এবারের মতো হাত ফাঁকা কোনো সময়ই যায়নি। আমাদের কাছে কোনো কাজই আসছে না।
সুভল চন্দ্র কর্মকার ও সম্ভু কর্মকার বলেন, কোরবানির আগে মোল্লারা ছুরি তৈরির জন্য আসতেন। কিন্তু এবার কিছুই নেই। শুধু কিছু দা, বঁটি ও কাঁচির কাজ করছি।
রুবেলুর রহমান/এসআর/জেআইএম