২০ বছর ধরে অসহায়দের জন্য পশু কোরবানি দেন ডা. নিয়ামুল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৪:২০ পিএম, ২১ জুলাই ২০২১

ঈদুল আজহায় অসহায় ও দরিদ্র পরিবারে পশু কোরবানি দেয়া সম্ভব হয় না। আত্মীয় স্বজন বা পাড়া প্রতিবেশীরা দিলে সে মাংস বাসায় নিয়ে রান্না করে খাওয়া হয়। এছাড়া সারা বছরে একবারও মাংস কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই অনেকের। এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা চিন্তা করেন ডা. মো. নিয়ামুল ইসলাম। তাই অসহায়দের জন্য প্রতি বছর পশু কোরবানি দেন তিনি।

ডা. নিয়ামুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক। রাজবাড়ীর মিজানপুর ইউনিয়নের বড়লক্ষীপুরের বাসিন্দা তিনি। ২০ বছর ধরে ঈদুল আজহায় অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য পশু কোরবানি দিয়ে আসছেন তিনি। পাশাপাশি ঈদ উপহার সামগ্রী ও নগদ টাকাও দেন।

এরই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে এ বছর রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুরে ২০০ জন অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে গরু ও খাসি কোরবানির সব মাংস বিতরণ করে দিয়েছেন।

বুধবার (২১ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে মিজানপুরের বড়লক্ষীপুরে তার নিজ বাড়িতে গরু ও খাসি কোরবানি শেষে প্রতিবেশী ও দুস্থদের মাঝে সব মাংস বিতরণ করে দেন। একই সঙ্গে পোলাওর চাল, সেমাই, চিনি, আটা, সয়াবিন তেল, সাবান ও নগদ টাকাও দেন।

raj-(1).jpg

মাংস, ঈদ সামগ্রী ও নগদ অর্থ পেয়ে এলাকার অসহায় মানুষগুলো জানান, করোনার কারণে তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। মাংস বা ঈদের সদাই করার মতো অবস্থা অনেকেরই নাই। এমন দুঃসময়ে মাংস, ঈদের সদাই ও নগদ টাকা পেয়ে তারা অনেক খুশি।

তারা আরও জানান, প্রতি বছর তিনি অসহায়দের মাংস ও ঈদের সদাই দেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করার পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাও দেন।

ডা. মো. নিয়ামুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবা ও স্ত্রীর অনুপ্রেরনায় ২০০১ সাল থেকে গ্রামের বাড়িতে দেয়া কোরবানির সব মাংস অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করে আসছি। পাশাপাশি ঈদ উপহার সামগ্রী ও নগদ টাকাও দিই। এবার একটি বড় গরু ও খাসি কোরবানি করে বিলি করে দিয়েছি। এছাড়া বাড়িতে আসলে এলাকার অসহায় মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক অসহায় মানুষ আছে, যারা সারা বছরে একবারও গরু বা খাসির মাংস কিনে খেতে পারে না। এসব মানুষের পাশে আমি সব সময় থাকতে চাই।’

রুবেলুর রহমান/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]