৮০ কেজি ওজনের ‘লালির’ দাম ৭০ হাজার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৪:৪৭ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০২১

আদুরে স্বভাবের হওয়ায় বিশাল আকৃতির একটি মাদি ছাগলের নাম রাখা হয়েছে ‘লালি’। নাম ধরে ডাকলেই চলে আসে মালিকের কাছে। আদর পেতে মাথা দিয়ে হালকা ধাক্কাও দেয়। ক্রস জাতের হালকা লাল রঙের এই লালির (মাদি) ওজন প্রায় ৮০ কেজি।

ছাগলটির মালিক নওগাঁ শহরের চকরামপুর খ্রিস্টান মিশনের বাসিন্দা উদ্যোক্তা জর্জ নির্মূলেন্দু মণ্ডল। তিনি এক সময় করপোরেট চাকরি করতেন। কিন্তু কয়েক বছর পর চাকরি ছেড়ে দেন। বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করে দিন কাটাতেন। একদিন শহরে এক ভ্যানচালককে দেখেন তার এক হাত নেই। কিন্তু তারপরও রডের বোঝা বহন করে চলছেন। ভ্যানচালককে দেখে মনে সাহস সঞ্চার হয় এবং চাকরি না করে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ জাগে তার।

আট বছর আগে শহরের এক খামারি তার খামারে থাকা সব ছাগল বিক্রি করে দেবেন। সেখান থেকে এক মাসের বাচ্চাসহ ১২ হাজার টাকা দিয়ে একটি ছাগল কিনে বাড়ি নিয়ে আসেন। পরামর্শ মতো নিয়মিত খাবার, যত্ন ও চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন জর্জ নির্মূলেন্দু মণ্ডল। এরপর থেকেই খামারে বাড়তে থাকে ছাগলের সংখ্যা।

nao-(3).jpg

পর্যায়ক্রমে সেই ছাগল থেকেই আজকের লালি। তিন বছর বয়সী লালির ওজন প্রায় ৮০ কেজি। যার দৈর্ঘ্য ৪২ ইঞ্চি (লেজের গোঁড়া থেকে মাথা পর্যন্ত) এবং উচ্চতা ৩৪ ইঞ্চি (মাটি থেকে কোমর পর্যন্ত)। লালি তার খামারের সবচেয়ে বড় ছাগী।

লালি বছরে দু’বার বাচ্চা দেয়। প্রতিবার দু-তিনটি বাচ্চা পাওয়া যায়। বর্তমানে খামারে ছয়টি ছাগল (ছাগী), ছয়টি বাচ্চা ও একটি তোতা জাতের পাঠা আছে। প্রজনন হিসেবে এই পাঠা ব্যবহার করা হয়। এ খামার থেকে প্রতি বছর প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করেন তিনি।

এছাড়া প্রতিদিন প্রায় দেড় লিটার দুধ পাওয়া যায়। দুধ দোহন না করে বাচ্চাদের খাওয়ানো হয়। যাদের খুবই প্রয়োজন তাদের কাছে বিক্রি করেন। সেক্ষেত্রে দুধের কেজি ২০০ টাকা করে বিক্রি করা হয়।

খাবারের তালিকায় রয়েছে- সবুজ লতাপাতা, ঘাস ও দানাদার খাবার। দিনে সময় মতো তিনবেলা (সকাল ১০টা, দুপুর ৩টা ও রাত ৯টা) খাবার দেওয়া হয়। গরমের সময় স্যালাইন পানি দেওয়া হয়। যারা ছাগলের বাচ্চা কিনতে চান তারা আগে থেকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন।

উদ্যোক্তা জর্জ নির্মূলেন্দু মণ্ডল জাগো নিউজকে বলেন, লালি একটি ক্রস জাতের ছাগী। বয়স বর্তমানে প্রায় তিন বছর। আমার খামারের সব চেয়ে এটি বড় ছাগী। প্রতি বছর দুবার লালি থেকে পাঁচ-ছয়টি বাচ্চা পাওয়া যায়। আমার জানামতে ওজনের দিক দিয়ে দেশে এ মেয়ে ছাগলের মতো দ্বিতীয় আর নেই। দেশে এর চাইতে ভালো মানের ছাগল আছে। কিন্তু ক্রস জাতের এই ছাগীর মতো হয়তো ওজন নেই।

nao-(3).jpg

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাজারে লালির দাম প্রায় ৭০ হাজার টাকা হবে। যদিও বিক্রির কোনো ইচ্ছা নেই। ওজনের দিক দিয়ে বিবেচনা করলে মাদি ছাগলটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেতে পারে। তাই গিনেস বুকে নাম উঠাতে আবেদন করার ইচ্ছা আছে। কেউ যদি এতে সহযোগিতা করেন তাহলে হয়তো আবেদন করতে পারবো।

নির্মূলেন্দু বলেন, যত্নের দিক থেকে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। জ্বর ছাড়া এখন পর্যন্ত ছাগলগুলোর অন্য কোনো সমস্যা আমি দেখিনি। বছরে দু’বার পিপিআর টিকা দেওয়া হয়। সবুজ ঘাসের চাহিদা মেটাতে নেপিয়ার ঘাস লাগানো হয়েছে। এছাড়া দেশি জাতের কয়েক ধরনের ঘাসও আছে। লালিসহ সব ছাগলকে প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে থাকি। দানাদার খাবারের দাম বেশি। এজন্য স্বল্প পরিমাণ দানাদার খাবার দেওয়া হয়।

নওগাঁ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন খান বলেন, কয়েক মাস আগে ওই খামারটি একবার পরিদর্শন করেছি। এছাড়া কোনো ধরনের সমস্যায় পড়লে আমাদের অফিসের লোকজন গিয়ে চিকিৎসাসেবাসহ পরামর্শ দিয়ে আসে। স্বল্প পরিমাণ ছাগল থাকলেও খামারটি উন্নতমানের।

আব্বাস আলী/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।