ঘরে আটকে মারধর ও গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৯:৪৮ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২১

নওগাঁর বদলগাছীতে রাতের বেলায় ভাতিজার স্ত্রীর কাছে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে প্রতিবেশী চাচাশ্বশুর আব্দুল লতিফ (৫০) মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরদিন তাকে সালিশের নামে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) সকালে গ্রাম্য সালিশে ইউপি সদস্য সাধন চন্দ্র ও দেলোয়ার হোসেন এবং স্থানীয় মাতব্বর এসকেন সোনার তাকে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূর স্বামী ঢাকায় রিকশা চালান। চাচাশ্বশুর আব্দুল লতিফ গৃহবধূর প্রতিবেশী। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজারের নৈশপ্রহরী এবাদুল, বিপ্লব ও সোহেল এসে ঘরে শিকল আটকে দেন। পরে তাদের দুজনকে ঘর থেকে বের করে মারধর করা হয়। এরপর পাশের বাড়িতে লতিফকে সারারাত আটকে রাখা হয়। পরদিন সকালে গ্রাম্য সালিশ বসিয়ে এক পর্যায়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাধন চন্দ্র ও দেলোয়ার হোসেন এবং মাতব্বর এসকেন সোনার তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন।

এ সময় আব্দুল লতিফের ডান পায়ের গোড়ালি ভেঙে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া গৃহবধূকেও নির্যাতন করা হয়। ঘটনার পর থেকে মাতব্বর এসকেন সোনার পলাতক আছেন।

প্রতিবেশী ফুলবর ও নুরনবী বলেন, বাজারের নৈশপ্রহরীরা গৃহবধূর ঘরে কাউকে প্রবেশ করতে দেখে শিকল দিয়ে দরজা আটকে দেয়। এরপর আমাদেরসহ আশপাশের লোকজনকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বিষয়টি জানায়। ঘর থেকে দুজনকে বের করা হয়। তবে তারা অনৈতিক কাজ করেছেন কি না আমরা জানি না।

এলাকাবাসী দুলাল মন্ডলসহ অনেকেই বলেন, ওই গৃহবধূর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় কাজ করেন। তারা হয়তো অন্যায় করেছে। কিন্তু এভাবে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা ঠিক হয়নি।

নির্যাতিতা গৃহবধূ বলেন, প্রতিবেশী চাচাশ্বশুর পাওনা টাকা নিতে এসেছিলেন। কিন্তু ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই শিকল আটকে দেওয়া হয়।

মারধরের শিকার আব্দুল লতিফ বলেন, ভাতিজাকে কিছু টাকা ধার দেওয়া ছিল। এরমধ্যে কিছু দিয়েছে, আর কিছু পাবো। ভাতিজার বউ আমাকে যেতে বলেছিল। এজন্য তার কাছে গিয়েছিলাম। ঘরের দরজায় এক পা দিতেই পেছনে থেকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ঘরে শিকল আটকে দেয়। পরে মারধর করে এবং পাশের বাড়িতে সারারাত আটকে রাখে। গ্রাম্য সালিশেও আমাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাধন চন্দ্র বলেন, গ্রাম্য সালিশের সিদ্ধান্তে তাদের শাসন করা হয়েছে। গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা যায় কি না এমন প্রশ্নে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর দুজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরপর তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আব্বাস আলী/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]